রায় হাইকোর্টের
শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই

সংগৃহীত ছবি
কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই বলে রায় এসেছে উচ্চ আদালত থেকে।
দুই বছর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের পর এক শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনে এই রায় হয়েছে।
বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২০ আগস্ট এই রায়টি দিয়েছিলেন। তখন সংক্ষিপ্ত রায় দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ রায়।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। ‘মব’ সৃষ্টি করে শিক্ষকদের নাজেহালের সমালোচনাও উঠেছিল।
তখন জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ‘গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষক আলকাছ উদ্দিন আহমেদ রিট আবেদন করেছিলেন।
সেই আবেদনেই রায়টি হয়েছে। হাইকোর্ট আলকাছ উদ্দিনকে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পদে অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশও দিয়েছেন।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা না হলে দায়ী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।
এর মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত করা, চেয়ারম্যান/সভাপতিকে অপসারণ বা অব্যাহতি দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তথা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসচিবের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করার মতো ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে আদালত বলেন, রিট আবেদনকারী শিক্ষকের পদত্যাগপত্র স্বেচ্ছায় বা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়নি; বরং তার স্বাক্ষর জোর করে নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পদত্যাগের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। আইন বা বিধি জোরপূর্বক বা চাপের মুখে পদত্যাগ সমর্থন করে না।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আলকাছ উদ্দিন গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট কয়েক ব্যক্তি তাকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নেন।
এই শিক্ষক পরদিনই কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। ওই বছরের ২০ আগস্ট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ২৪ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও তিনি লিখিতভাবে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানিয়ে আইনি প্রতিকার ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন তিনি।
এরপর এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে আলকাছ উদ্দিনকে স্বপদে বহাল করতে নির্দেশ দেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। কিন্তু সেই আদেশ যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় উপযুক্ত প্রতিকার চেয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্ট রিট আবেদন করেন আলকাছ উদ্দিন।
রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
চলতি বছরের ২০ আগস্ট আগের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্ট বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে রিট আবেদনকারীর পদত্যাগের আইনি কোনো বৈধতা ছিল না। রিট আবেদনকারী ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত তার এমপিও অংশ (বেতন-ভাতা) পাচ্ছিলেন। এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) আলকাছ উদ্দিনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে বা চাকরিতে বহাল করতে আইনিভাবে বাধ্য এবং তিনি অবিলম্বে পুনর্বহাল হওয়ার অধিকারী ছিলেন।




