প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের রায় জালিয়াতির অভিযোগ কয়েক আইনজীবীর বিরুদ্ধে

ফাইল ছবি
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৮ মামলায় রায় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি আমলে নিয়ে রায় জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বোধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক সাংবাদিকদের জানান, জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াসহ কয়েকজন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহকে ঢাকা না ছাড়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। এ ঘটনায় ওইদিন আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক জানান, ২০২০ সালের একটি রিট মামলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল বাতিল করে নতুন মেধা তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ওইসব মামলায় মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে নতুন করে সহ-আবেদনকারী যুক্ত করার ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। পরে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়েই যুক্ত হওয়া আবেদনকারীদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়।
জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এমন ১৮ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ওই আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। এসব রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে।
এদিকে, বিতর্কিত এসব রায় আসে হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ থেকে। ফলে এই বিচারপতির অন্যান্য রায়ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ বলেছেন, আদালত আমাদের সিনিয়র আইনজীবীদের কথা শুনেছেন। ১৮টা মামলার শুনানিতে কি অনিয়ম আছে, সেটা সম্পর্কে একটি তদন্ত কমিটি করছে। আমি মনে করি তদন্ত কমিটির মাধ্যমেই প্রকৃত যে অনিয়মটা আছে, মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সেটা বেরিয়ে আসবে।
তবে তিনি দাবি করেন, এটুকু বলা যায় যে, এই জাল-জালিয়াতির কোনো ঘটনা এখানে পরিলক্ষিত হয়নি, কিন্তু কিছু অনিয়ম দেখা গেছে। আমি বলি এটাও যেহেতু বিচারাধীন বিষয়, যে তদন্ত কমিটি করেছে তারাই আদালতের কাছে পেশ করবে।



