সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় পেল টাস্কফোর্স
- কলহের জেরে একজনকে হত্যার পর অপরজন আত্মহতহ্যার প্রমাণ মেলেনি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় দিয়ে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আগামী ২৯ এপ্রিল ২০২৭ হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওইদিন সব নথিসহ টাস্কফোর্সের প্রধান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহাকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী জড়িত বলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও তানভীর জোহা টাস্কফোর্সকে জানিয়েছেন। এমনটাই হাইকোর্টকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এদিন অ্যাটর্নি জেনারেল টাস্ক ফোর্সের পক্ষ থেকে ২৭ পৃষ্ঠার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেন আদালতে। সে প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ মোট ১৬৭ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তার সময় মোট ৯০ সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের কারণে একজনকে হত্যার পর অপরজন আত্মহতহ্যা করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা যায় দুই জনকে হত্যা করা হয়েছে। পেশাগত কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে এ ধরণের কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙ্গা টিভির সহকর্মী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পেশাগত দিক থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরণের শত্রুতা বা বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরও বলা হয়, সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে যা ২০১৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। তাদের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে তদের হত্যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অর্থ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে কি-না, তদন্তকালে এই ধরণের কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। তাদের কোনো ধারকর্য বা ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় নাই।
মামলার পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তাগণ শেরেবাংলানগর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এবং কলাবাগান থানার ১৩০টি চুরি, ডাকাতি মামলার সন্ধিগ্ধ গ্রেপ্তারকৃত ১৪৫ জন আসামির বিরুদ্ধে গোপনে প্রকাশ্যে ব্যাপক তদন্ত করা হয়। বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তার সময় ৪২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ঠিকানা পিসিপিআর যাচাই বাছাই করা হয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিটিআরসিসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা হয়। এসব সন্দেহভাজনদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আসামির গতিবিধি চালচলন ও পূর্ব ইতিহাস গভীর ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের মটিভ এবং কে বা কারা জড়িত তা এখনো সুনির্দিষ্ট করা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পিবিআিই, সিআইডি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কর্তৃক অত্র মামালায় লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, ও দুইটি ল্যাপটপ অদ্যাবদি উদ্ধার করা যায় নাই। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক ডিএমপি ডিবির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম, সাবেক র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। অন্য আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে। উল্লিখিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তো বা মামলার কেনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য কিংবা নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।
এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনার সময় তারা প্রাথমিকভাবে সাগর রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তদন্তপূর্বক যাচাই বাছাই করছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে তথ্যগুলো পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করা হবে।
এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা যে তদন্ত করছেন তা শেষ হলে এই সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ততারা পিবিআইয়ের তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করবেন।



