সুপ্রিম কোর্টের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট, বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ গঠন চেয়ে রিট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সুপ্রিম কোর্টের জন্য অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ গঠনে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লবসহ সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের ২৬ জন আইনজীবী জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেছেন।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ন কবির।
রিটে ন্যায্য ও দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পর্যাপ্ত, প্রয়োজনভিত্তিক ও আনুপাতিক বাজেট বরাদ্দের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্তসংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠন এবং আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, সুপেয় পানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যুক্তিসংগত, চাহিদাভিত্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুকূলে বাজেট বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা, যা প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী একই অর্থবছরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য বরাদ্দ ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের চেয়ে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশ বেশি। আইনমন্ত্রী নিজেও গত ২ মে গণমাধ্যমে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে অবহেলিত খাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলাজট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩০টি, অথচ আপিল বিভাগে ৫ জন ও হাইকোর্ট বিভাগে ৯৯ জনসহ মোট বিচারপতির সংখ্যা মাত্র ১০৫ জন। এছাড়া বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সত্ত্বেও নিম্ন আদালতের বিচারক সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে অন্তত ৬ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
রিটে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সর্বোচ্চ আদালতের তুলনায় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বাজেট কম, অথচ মামলার চাপ অনেক বেশি। আপিল ও হাইকোর্ট- উভয় বিভাগের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত ব্যয় বহন করতে হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের ওপর কাঠামোগত চাপও ভারত বা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি।
রিট দায়েরের আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিবাদীদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৩ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলা হলেও বিবাদীরা কোনো সাড়া দেননি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রিট আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। আমরা আশা করি, আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে উপযুক্ত নির্দেশনা দেবেন।’



