হামে সন্তানের মৃত্যু
ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে মামলার আবেদন খারিজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস- সংগৃহীত
হামে ৯ মাসের সন্তানের অবহেলাজনিত মৃত্যুর দায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলা গ্রহণের কোনো উপাদান না থাকায় আজ রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য জানান।
মামলায় আবেদনে অপর আসামিরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
এর আগে গত ৫ জুলাই আদালতে মৃত সাউদা নুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশের জন্য ১২ জুলাই দিন ধার্য করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। কিন্তু জ্বর ভালো হয়নি। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হতে থাকলে বাবা সিরাজুল তাকে গত ২২ মার্চ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হতে থাকে। সেসময় সিরাজুল খেয়াল করেন ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ মারা যায় মুসকান।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত জোগান সময়মতো না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনায় যথাসময়ে আমদানি না করায় দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা দেওয়া যায়নি। এর জন্য দায়ী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী দায়িত্বে থাকা ইউনূস সরকার ও তার রাষ্ট্রযন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্ত। প্রাণঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তাগিদ থাকা সত্ত্বেও ইউনূস সরকার টিকা আমদানি করেনি।
আরও বলা হয়, এই সরকারের এমন মারাত্মক অবহেলার কারণে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিক শিশু মারা গেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম। দেশব্যাপী শিশুদের মৃত্যুর দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও তারা হামজনিত শিশুমৃত্যুর প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর জন্য তারা একইভাবে দায়ী ও প্রচলিত আইনে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।




