এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

ফাইল ছবি
সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্থানীয় এমপির স্ত্রীকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল।
কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক স্বাক্ষরিত এক আদেশে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের অগোচরে ঘটে যাওয়া এই রদবদল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে শুরু হয় সমালোচনা।
হঠাৎ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাদ পড়ে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় হওয়ার কথা জানিয়ে ব্যরিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিস পাঠান।
নোটিসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা না মেলায় তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, কলেজ পরিদর্শক ও কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
আদালতের কাছে আবেদনকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
রিটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসংক্রান্ত সংশোধিত সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়। রিটে দাবি করা হয়, কোনো কারণ না দর্শিয়ে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য না শুনে স্থানীয় এমপির স্ত্রীকে সভাপতি করার এই প্রক্রিয়া চরম স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৩ জুলাই দেওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধির ৭ ধারা ও এমপির স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার আদেশটি কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।




