মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
অপর অভিযুক্তরা হলেন- ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
অভিযুক্তদের মধ্যে মানিক, জামাল ও সৈকত বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং বাকিরা পলাতক।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি বুধবার সাংবাদিকদের জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বেশ কিছু লোকজন আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা এবং পুলিশের হামলার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ও ষড়যন্ত্র করেন। তারা অ্যাটেম্পট করেন এবং অ্যাবেটমেন্ট করেন। এসব অভিযোগে আমরা একটি ফরমাল চার্জ আজ দাখিল করেছি।
এই ফরমাল চার্জের কিছু আসামি পলাতক থাকায় তিনি সবার নাম বলতে চাননি।
‘‘কিছু শিক্ষক আছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো- ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা যখন আন্দোলনকারীদেরকে ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বা ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তারপর তারা এই বক্তব্যটাকে ক্যারি আউট করে তাদের সাব-অর্ডিনেটদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের উপরে নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথন করে ষড়যন্ত্র করেন ছাত্রদেরকে হত্যা এবং নির্যাতনের’— উল্লেখ করেন প্রসিকিউটর গাজী তামীম।
আরও একটি ফরমাল চার্জ
প্রসিকিউটর তামিম জানান, বুধবার তারা আরও একাটি মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছেন।
তার ভাষ্য, সিটিটিসি (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) নামে সরকারের একটা সংস্থা ছিল। যারা ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন যুবকদের সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে অথবা বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমালোচনা করার কারণে গুম করত। গুম করে বিভিন্ন আয়নাঘরে তাদের আটক রাখত এবং আটক রাখার পরে যখন সরকারি সিদ্ধান্ত আসত তাদের হত্যা করার, তখন নির্দিষ্ট একটি জায়গাতে তাদের রেখে এটাকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হতো।
তিনি জানান, আবার কিছু হতো, যাদের আর খুঁজেই পাওয়া যেত না, যাদের লাশ গুম করে ফেলা হতো। আবার কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হতো। এরকম একটি অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আরেকটি ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।
শাপলা চত্বর মামলায় আইনজীবী নিয়োগ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ৩০ জন আসামি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের অনুপস্থিতি ঘোষণা করে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন।



