হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইলেন শাহজালাল রুমি

শাহজালাল রুমি—ফাইল ছবি
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন শাহজালাল রুমি।
গত রবিবার আবেদনটি করা হয়েছে বলে আগামীর সময়কে জানিয়েছেন রুমির আইনজীবী বেলাল হোসেন। বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
রুমির আরেক আইনজীবী রুহুল আমিন হাসান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘শাহজালাল রুমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এক নাগরিক। তিনি বিচারব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে আইনি পথেই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। তবে রুমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’
গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসায় শাহজালাল রুমির ৭ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন রুমি। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এরপর পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ। মামলায় রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।
এই পাল্টা মামলা দায়েরের পর থেকে আড়ালে চলে যান শাহজালাল রুমি। এরপর গতকাল সোমবার রুমি আগামীর সময়কে বলেছিলেন, ‘আমি এই দেশে আর নাই। এগুলা নিয়ে আর ভাবছি না, যা হয় হোক, আপনারা ভালো থাকেন।’
তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছিল আগামীর সময়ের। আজ মঙ্গলবার আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি, আমি পালাব কেন, দেশের বাইরে কেন যাব?’
তাহলে গতকাল দেশ ছাড়ার কথা কেন বললেন- প্রশ্ন করলে তার উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন রুমি। এরপর খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।




