ছিনতাইয়ের পর গার্মেন্টস কর্মী হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

এদিন কারাবন্দি তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গার্মেন্টস কর্মী সায়মনের মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর হত্যার দায়ে তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মোবাইল ক্রেতা সুজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান।
এদিন কারাবন্দি তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, মামলার ভিকটিম অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও তিনি উপার্জনক্ষম ছিলেন। ১০ হাজার টাকা বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
বর্তমানে সময়ে জনগণের কাছে ধারণা হয়েছে, এসব ঘটনায় সাজা হয় না। তবে সমাজের প্রতি একটা মেসেজ দেওয়ার জন্য তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া পলাতক থাকা আসামি সুজনের তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামিরা চাইলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আসামি সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে গার্মেন্টসে চাকরির খোঁজে ঢাকায় আসেন সায়মন। চাচার সঙ্গে থেকে মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিকের কাজ করতেন।
প্রথম মাসের বেতনের টাকা নিয়ে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতে সনি সিনেমা হল এলাকায় এসেছিলেন। সায়মনের সঙ্গে ছিলেন বন্ধু রাব্বি ও হৃদয়। বেতনের ১০ হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। কিনেছিলেন একটি প্যান্টও। বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর মিরপুরে সায়মন ও রাব্বি নামের দুই বন্ধু ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
ছিনতাইকারীরা তখন বলেন, সায়মন নাকি তাদের বড় ভাইকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। ছবি মিলিয়ে দেখার কথা বলে রিকশায় করে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নিয়ে যায় দুই বন্ধুকে। এ সময় ছিনতাইকারীরা সায়মনকে একটু দূরে নিয়ে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সায়মনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা শাহজাহান শেখ রাজধানীর দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।



