গরমে সালমান এফ রহমানের অস্বস্তি, বললেন— ‘এসব পরলে মরেই যাব’

ঠিক এক বছর ৯ মাস ৮ দিন আগে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একাধিক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল তাকে। তবে সব সময় স্বভাবসুলভ নিশ্চুপ থাকতেন তিনি। বড়জোর পরামর্শ করতেন আইনজীবীর সঙ্গে।
তবে সাংবাদিকদের সামনেই কথা বললেন সালমান এফ রহমান। জানালেন হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরবেন না। তার ভাষ্য ‘অনেক গরম, খুব গরম। এই গরমে এসব পরলে মরেই যাব।’ আজ বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে আদালতে হাজিরের পর এভাবেই বলছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেছেন, ‘নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন সালমান এফ রহমান। আইনি পরামর্শ ছাড়া কোনও কথা বলেন না তিনি। তবে জ্যাকেট ও হেলমেট পরানোর সময় কথা বলেছেন আজ। এই গরমে বয়স ও মানবিক বিবেচনায় তাদের হেলমেট-বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট না পড়ানো উচিত৷’
আদালত সূত্র জানিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে অর্থ পাচারের অভিযোগে মতিঝিল থানার দুই মামলায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় সালমান এফ রহমানকে। পরে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বলেছেন, ‘দুই মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন সালমান এফ রহমান। তবে শুনানি শেষে নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় মামলা করেন সিআইডির সোহানুর রহমান। এতে আসামি করা হয় সালমান এফ রহমানসহ ছয়জনকে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড দুটি এলসি গ্রহণ করে পণ্য রপ্তানি করে। তবে রপ্তানিকৃত মূল্য ফেরত আনেননি। আসামিরা বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে পাচার করেছেন ১৯ লাখ ৯৮ হাজার মার্কিন ডলার।
এছাড়া ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন মতিঝিল থানায়। এতেও আসামি করা হয় সালমান এফ রহমানসহ ছয়জনকে। মামলার অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনটি এলসির মাধ্যমে ২৮ লাখ ৩২ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করে বেক্সিমকো গ্রুপের করপোরেট গ্যারান্টেড প্রতিষ্ঠান অটাম লুপ এপারেলস লিমিটেড। তবে সেই ডলার ফেরত আনা হয়নি।
দুটি মামলায় তদন্ত শেষে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।




