নিউ গিনি প্রোপার্টিজে ভাঙচুর: জামায়াত এমপির জামাতার জামিন

মো. মিজানুর রহমান
রাজধাউনীর ইসিবি চত্বরে ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প ভাঙচুর, লুটপাট, চুরির মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমান জামিন পেয়েছেন। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আইনজীবী সৈকত হোসেন তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। বাদীপক্ষে থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কোন আইনজীবী ছিলেন না। পরে শুনানি শেষে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকালে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১ অক্টোবর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও’র আবাসনে হামলার ঘটনায় জামায়াত এমপির জামাতা গ্রেপ্তার
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর ইনসিভি চত্বর নিউগিনী প্রোপার্টিজের কেনা জমির ওপর নির্মিত নিউগিনী প্রোপার্টিজের সম্পত্তি দখলসহ নানা রকম সন্ত্রাসে লিপ্ত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০মিনিটের দিকে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম তার প্রজেক্টে ছিলেন। এসময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্র-শস্ত্রসহ শাবল, রিভালবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে দলবল নিয়ে তার প্রজেক্টে ঢুকেন। ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তখন ঘটনাস্থলে থাকা লেবার, সিকিউরিটি গার্ডরা আতঙ্কে ছুটাছুটি করতে থাকে এবং বাদীও প্রাণভয়ে নির্মানাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
আসামিরা সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে জখম করেন। আবুল কাসেম রিভালবারের মাথা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পারভেজের মাথার মাঝ বরাবর আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামি বাবুল ছোরা দিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটু নিচে অংশ, বাম হাত ও পিঠে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। আসামি গোলাম মহিউদ্দিন তার পকেটে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। পারভেজকে বাঁচাতে প্রজেক্টের সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলাম এগিয়ে আসলে আসামিরা তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। আসামি শাহিনুজ্জামান তার হাতে থাকা সিকিউরিটির কাজে ব্যবহৃত ওয়ারলেস সেট নিয়ে যায়। আসামি মতিউর ও মজিবুর সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
বিবরণ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে আসামি নুরুল ও মিজানুর প্রজেক্টের মেইন গেইটে ১০ রাউন্ড গুলি করে এবং লোহার গেইট, থাইগ্লাস, কেচি গেইট ভেঙে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেন। আসামিরা বাদীর প্রজেক্টের অফিস রুমে প্রবেশ করে চারটি কম্পিউটারের মনিটর, চারটি ডিভিবক্স, একটি এলইডি টিভি, সাতটি বিভিন্ন ব্রান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার, একটি কাঠের আলমারী ভাঙচুর করেন। এতে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। আসামিরা অফিস রুমের লকার ভেঙ্গে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়ের জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মানাধীন ভবনের সাইডে রাখা ২০ লাখ টাকার রড, চার লাখ টাকার স্কুটার নিয়ে যায়। ৫৫ লাখ টাকার কয়েল তার, এক লাখ টাকা মূল্যের পানির পাম্প, এক লাখ ৮০ হাজার টাকার নির্মাণ সামগ্রী ছাদে উঠানোর রফুস, তিন লাখ ২০ হাজার টাকার ল্যাপটপ ও কম্পিউটার, ৭৫ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার ডিভিআর, মনিটর ও ৭০ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার ক্ষতি করে।
এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদির স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টিভি, এসিসহ অন্যান্য দামি ফার্নিচার ভাঙচুর করে ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করেন।





