ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা

ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান- তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বুধবার ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ: ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
ঘোষণায় বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।
অনুষ্ঠানে বিলকিস জাহান রিমি বলেছেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণকে বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডাক অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেছেন, ডাক অধিদপ্তরকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন ডাকসেবাসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লাখো মানুষও তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য, তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরামের প্রতিনিধি এবং ডাক অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।









