ভুয়া স্লিপে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৪৮ গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ

গ্রেপ্তার নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন
নোয়াখালীর মিরিকপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ‘সার্ভারে ত্রুটি’ দেখিয়ে ভুয়া স্লিপ দেওয়ার মাধ্যমে ৪৮ গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আউটলেটের মালিক মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, নাছির উদ্দিন ২০১৯ সাল থেকে মিরিকপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটটির দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি তার সহযোগী মো. শহিদুল্লাহ প্রকাশ জিয়াকে টেলার হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর দুজন পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করতেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রাহকরা টাকা জমা দিতে এলে অভিযুক্তরা ভুয়া সার্ভারে বায়োমেট্রিক গ্রহণ করতেন। পরে সার্ভারে ত্রুটি দেখিয়ে ভুয়া স্লিপ দিয়ে জানানো হতো, তাদের টাকা ব্যাংকে জমা হয়ে যাবে। কিন্তু পরে ওই টাকা গ্রাহকদের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হতো। এভাবে ৪৮ গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
গ্রাহকরা পরবর্তী সময়ে হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন ও হিসাব হালনাগাদ করতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা আউটলেটে গিয়ে অভিযোগ দিলে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লক্ষ্মীপুরের এরিয়া ম্যানেজার বাদী হয়ে নাছির উদ্দিন ও তার সহযোগী শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন। পরে আদালতের নির্দেশে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তবে প্রায় এক বছরেও মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মো. কামাল আব্বাস।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আদালতের মাধ্যমে নাছির উদ্দিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য দেন। পরে ২২ আগস্ট ২০২৬ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







