গুলশানে কুকুর হত্যার মামলা, গাড়ি জব্দের পর চালককে খুঁজছে পুলিশ

ফাইল ছবি
রাজধানীর গুলশানে গাড়িচাপায় একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত গাড়িটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে চালককে এখনো পাওয়া যায়নি।
থানা সূত্র জানিয়েছে, পোষা কুকুরটির অভিভাবক ইপ্সা নাজিয়া আদিবা। কুকুরটির নাম ‘কাই’। চার বছর বয়সী কাই সাইবেরিয়ান হাস্কি জাতের কুকুর।
গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে গুলশান-২-এর ৬৩ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন আদিবা। একটি কালো টয়োটা ফরচুনার গাড়ি সড়কে ঘোরানোর সময় সামনে থাকা কুকুরটির ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমদিকে ফুটেজে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে গাড়িটি বা এর মালিক সম্পর্কে তথ্য চেয়ে গুলশান এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তা চান আদিবা।
গত ১১ অক্টোবর কাইয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আদিবা। পরে ওই পোস্টের সূত্র ধরে গাড়িটি শনাক্ত করতে সহায়তা করেন অনেকে। গত ১২ অক্টোবর গুলশানের ৬৮ নম্বর সড়কের একটি বাসায় গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে গুলশান থানায় মামলা করেন আদিবা।
বৃহস্পতিবার গাড়ি জব্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজায়েদ মো. নাজমুন নুর। তিনি আগামীর সময়কে বলেন, ‘সড়কে খেলার সময় কুকুরটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে একটি কালো টয়োটা ফরচুনার গাড়ি। এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে মামলা করেন ইপ্সা নাজিয়া আদিবা। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। গাড়িটি একটি বাসায় প্রবেশের সময়ের ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, পোষা কুকুরটির মৃত্যুর ঘটনায় চালকের অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সময় চালকের আসনে কে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোষা কুকুরটির মালিক আদিবার অভিযোগ, কাইকে চাপা দেওয়ার পরও গাড়িটি থামানো হয়নি। আশপাশের ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলেও চালক গাড়ি থেকে নামেননি।
তিনি ফেসবুক পোস্টে কাইয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে লেখেন, কাই তার কাছে শুধু একটি কুকুর ছিল না; ছিল সন্তানের মতো, পরিবারের চেয়েও বেশি কিছু। প্রায় আড়াই বছর আগে এক বন্ধুর কাছ থেকে কাইকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন তিনি। এর পর থেকে কাই তার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ঘরে কিংবা বাইরে, সবখানেই তার সঙ্গী ছিল কাই।
আদিবা বলেন, ‘কীভাবে কেউ একটি অসহায় প্রাণীকে গাড়িচাপা দিয়ে এমনভাবে চলে যেতে পারেন, যেন কিছুই ঘটেনি? ভবিষ্যতে অন্য কারও সন্তান বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দায়ী চালককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।’




