মির্জা ফখরুল
খাল দখল ও ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী
ঢাকায় প্রাকৃতিক খাল দখল ও ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলো উদ্ধার, পরিষ্কার এবং নদীর সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভবন মিলনায়তন এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ডিএনসিসির উদ্যোগে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এই সেমিনার হয়।
মন্ত্রী বললেন, তুরাগসহ আশপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী ও খাল রক্ষা করা না গেলে ঢাকার পরিবেশগত সংকট আরও গভীর হবে।
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বললেন, এ জায়গায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামী নয়, বরং বাংলাদেশকে দেখতে চান তারা।
তার ভাষ্য, অর্থ সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ঢাকা আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলছিলেন, গত ৫০ বছরে অনেক সেমিনার ও কর্মশালা হয়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো দায়িত্বশীল আচরণ। কাজটা কিন্তু একটাই, আমার শহর আমি পরিষ্কার রাখব। আমার কাজটা আমি করি। তাহলে সব পরিষ্কার হবে।
এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, শহরের জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস এখনো গড়ে ওঠেনি। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি টেলিভিশন, বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদী পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। জানালেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার প্রকল্পও এগিয়ে চলছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও অর্থ দুটোই প্রয়োজন।
মন্ত্রীর ভাষ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও আছে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা। তারপরও সবাই নিয়ম মেনে চললে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ অন্যরা।




