সংস্কৃতি মন্ত্রী
অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র সুস্থ সংস্কৃতি

সংগৃহীত ছবি
অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হাজার বছরের সমৃদ্ধ সুস্থ সংস্কৃতি। এ মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আজ শনিবার রাজাধানীতে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সুরসপ্তক’-এর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এসব বলছিলেন তিনি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী জানাচ্ছিলেন, সুস্থ সংস্কৃতি দিয়েই দূর করতে হবে অপসংস্কৃতি। বর্তমানে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের ভয়াবহতা, যা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রাস করছে পুরো যুবসমাজকে। এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এ অবস্থায় কারো নিশ্চিন্ত হয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সতর্ক করছিলেন তিনি, লোকালয়ে আগুন লাগলে রক্ষা পায় না দেবালয়ও।
সংস্কৃতি মন্ত্রীর আশ্বাস, দেশব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি চর্চাকে আরও জোরদার করবে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমেই সমাজ থেকে নির্মূল করা হবে অপসংস্কৃতি।
‘কেউ অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তাকে প্রতিহত করতে পাল্টা অস্ত্র লাগে। অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো আমাদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ সুস্থ সংস্কৃতি।’
আগামী ৮ মে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ দেশব্যাপী রবীন্দ্রজয়ন্তী এবং ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালসহ সারাদেশে নজরুল জয়ন্তী বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালনের কথাও উল্লেখ করছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী।
সুরসপ্তকের প্রতিষ্ঠাতা একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এবং এসএমসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তছলিম উদ্দিন খান।
সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা বলছিলেন, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুদ্ধ ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সুরসপ্তক। আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য, নতুন প্রজন্মের মাঝে শিকড়ের গান ও সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়া।
সাংস্কৃতিক পর্বে ফেরদৌস আরার একক পরিবেশনা ছাড়াও ছিল দেশের বরেণ্য শিল্পী আবিদা সুলতানা, খুরশিদ আলম, রফিকুল আলম, অনিমা রায়, কোনাল ও ঝিলিকের পরিবেশনা। এছাড়াও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে সুরসপ্তকের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমবেত জাতীয় সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। নৃত্য পরিবেশন করেছেন প্রজন্ম এ সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসের শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন), সিডিএফের নির্বাহী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।



