আদ-দ্বীন হাসপাতালের রোগী গ্রহণে প্রস্তুত ছয় সরকারি হাসপাতাল

সংগৃহীত ছবি
ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর সেখান থেকে রেফার করা রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল এখন আর কোনো রোগীর চিকিৎসা দিতে পারবে না। এ অবস্থায় ওই হাসপাতাল থেকে আসা রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
ঢাকার যেসব হাসপাতালকে নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে সেগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটি আর চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে পারবে না এবং রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ মে, ঈদের আগের দিন সকালে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
এরপর ৪ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং একই দিন কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হলেও জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত নবজাতকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে দাবি করেছে তাদের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থান সরকারই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।




