সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সংগৃহীত ছবি
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ এবং আইন বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বৈঠকে কানাডা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা করেন। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, গত ৩৩ বছর ধরে সংগঠনটি সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা তৈরি ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করছে। সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে বক্তারা জাতিসংঘের নিরাপদ সড়কব্যবস্থা (সেফ সিস্টেম) অনুসরণ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ে কার্যকর রোড সেফটি ডেটা সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ, নিয়মিত তদারকি ও অগ্রগতি প্রকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তা কর্মদশক ২০২১–২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও তারা মত দেন।
বৈঠকে বুয়েটের অধ্যাপক ও সড়ক বিশেষজ্ঞ শামসুল হক, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি শামসুল আলম, ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক খালেদ মাহমুদ, সড়ক বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান এবং আইইউবির ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক কামরান উল বাসেত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।



