চিফ প্রসিকিউটর
জুলাইয়ে নদীতে লাশ ভাসিয়েছে একটি হাসপাতাল
- শহীদের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১৪০০

মো. আমিনুল ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের লাশ গুম করতে ঢাকার একটি হাসপাতাল কাছের একটি নদীতে মরদেহ ভাসিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, গণকবর ও গুম করা এসব লাশের হিসাব যোগ করলে নিহতের সংখ্যা জাতিসংঘের তদন্তে পাওয়া ১৪০০-এর বেশি হতে পারে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলছিলেন, ‘আমাদের ঢাকার কাছের নদীতে একটি হাসপাতাল থেকে অনেক ডেডবডি পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য আমরা ইনভেস্টিগেশনে পেয়েছি। আমরা সেই হাসপাতালের তখনকার কর্তৃপক্ষসহ যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত ছিল, তাদের শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
যেসব ডেডবডি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সেসবও শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
আন্দোলনের সময় হাসপাতালগুলোর ভূমিকা নিয়ে তার ভাষ্য, সে সময় অনেক হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধাদের ডেডবডি থাকলেও তারা রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করতেন না। ময়নাতদন্ত বা সুরতহাল করতে দেওয়া হত না। অনেক লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে ডিসপোজাল করতেন। আমরা এসব হাসপাতাল চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, তবে এখনই নাম বলতে চাই না।
জাতিসংঘের দেওয়া ১৪০০ নিহতের তালিকার সঙ্গে সরকারের দেওয়া আট শতাধিক নিহতের তালিকার অসামঞ্জস্যতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলছিলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রায় ৮৬৫টি লাশ শনাক্ত হয়েছে। যেগুলো শনাক্ত হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। জুরাইন, নারায়ণগঞ্জ, মাতুয়াইল এবং মুন্সিগঞ্জের গণকবরগুলো আমরা শনাক্তের চেষ্টা করছি। এছাড়া নদীতে কতগুলো লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটিও দেখা হচ্ছে।’
তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘এগুলোর যোগফল যখন দেখবেন, সংখ্যাটা ১৪০০-এর বেশি হয়ে যেতে পারে। আমরা ধারণা করছি, শহীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।’
গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে জাতির কাছে প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন আমিনুল ইসলাম। ‘এই গণহত্যার সঙ্গে রাষ্ট্রের যত বড় ব্যক্তি বা রাষ্ট্রযন্ত্রের যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কেউ পার পাবে না। যারা মনে করছেন তারা পার পেয়ে গেছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমাদের প্রসিকিউশন টিম বাংলার মাটিতে প্রতিটি হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।’




