যাত্রাবাড়ীতে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বাবু

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবু (৪৫) নামে দক্ষিণাঞ্চলের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
সোমবার দুপুরে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের বিশেষ অভিযানে যাত্রাবাড়ী থানার ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ডিএনসির উপপরিচালক মেহেদী হাসান আগামীর সময়কে বলেছেন, কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে যশোরে বসবাসকারী বাবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে যশোরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়াবা পাচার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি ঢাকায় এসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সংগ্রহ করে যশোরগামী একটি বাসে করে ফেরত যাচ্ছেন।
তিনি আরও বললেন, ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) মোস্তাক আহমেদের তত্ত্বাবধানে একটি দল এই তথ্যের ভিত্তিতে ধোলাইপাড়ে যশোরগামী ‘লিটন ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায়। এ সময় সাধারণ যাত্রীর বেশে থাকা বাবুল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বাবুল হোসেনের তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএনসি সূত্র বলছে, যশোরে অবস্থানকালে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন মাদক কারবারির সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার মাদক চক্রের সঙ্গেও তার সংযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে প্রথমে কেরানীগঞ্জে মজুদ করতেন। পরে সেখান থেকে বাসযোগে যশোরে নিয়ে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এর আগে আরও কয়েকটি বড় ইয়াবার চালান পাচারের কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




