চট্টগ্রামে বাসায় বিস্ফোরণ, মায়ের পর প্রাণ গেল ছেলেরও

প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামে একটি বাসায় বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর ১৫ ঘণ্টার মধ্যে ছেলেও পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকালে মো. শাওন নামে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালে থাকা তাদের নিকটাত্মীয় জামশেদুর রহমান মিলন জানান, সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসক শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ১৭ বছর বয়সী শাওন এবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে জানালেন মিলন ।
এর আগে সোমবার বিকেলে দগ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লায় শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রাণী (৩৬) মারা যান। সেই অবস্থায় তাকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে হলে পরীক্ষা করে চিকিৎসক মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
মা-ছেলের মৃত্যুর পর ওই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৭ জন। তাঁরা হলেন— নুরজাহানের স্বামী মো. সাখাওয়াত (৪৬), তাঁর ছেলে আনাস (৭) ও আইমান (৯) এবং সাখাওয়াতের ভাই মো. সুমন (৪০) ও স্ত্রী পাখি বেগম (৩৫), তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা, সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন (৩০)।
গতকাল সোমবার ভোরে নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলার এক বাসায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৯ জন দগ্ধ হন, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
আহতদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দুপুরে তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত জানালেন, আগুনে নুরজাহান ও তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন এবং পাখি বেগমের শ্বাসনালীর শতভাগ পুড়ে যায়। শিপনের শ্বাসনালীর ৮০ শতাংশ পুড়েছে। সুমন ও শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। আনাস, আইমান ও আয়েশার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
বিস্ফোরণে তৃতীয় তলার বাসাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পুরো ভবনে ১০-১২টি ফ্ল্যাটের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরজা, জানালার কাচ, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে তথ্য ফায়ার সার্ভিসের।















