স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মানব পাচার ঠেকাতে কার্যকর হবে নতুন আইন

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বললেন, ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতেও এ আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কৌশল প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ আন্তঃদেশীয় এই দুই অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।’
‘এ আইনে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, ‘নতুন আইন বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
‘ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিক নীতিও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সহজ হবে।’—জানালেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইনের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা ও প্রধান বিধান তুলে ধরেন। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, সিআইডি, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




