পোল্ট্রি খাতে মাসে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির দাবি

ছবি: আগামীর সময়
ন্যায্যমূল্যে ডিম ও মুরগি বিক্রি করতে পারছেন না পোল্ট্রি খামারিরা। উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণেরও সরকারি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এ কারণে প্রতিদিন ২৪ কোটি টাকা বা মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। এমন দাবি করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি। পরে সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১১ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বললেন, ‘দেশে আগে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ছিল ৫ শতাংশ। চলতি বছর তা কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে এ করের হার শূন্য। উৎপাদন খরচ কমাতে বাংলাদেশেও এআইটি শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
মোশাররফ হোসেন বললেন, ‘পোল্ট্রি খাতে বর্তমানে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। অথচ প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশগুলোতে এ হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। তাই করপোরেট করও কমানোর দাবি জানাচ্ছি।’
সংগঠনের মহাসচিব এম সাফির রহমান বললেন, ‘পোল্ট্রি খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক শিল্প। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়েছে। বেড়েছে ডলারের বিনিময় হার। আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুল্ক-ভ্যাটের চাপও রয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।’
তিনি বললেন, ‘উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে ডিম ও মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। ফলে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে খামারির সংখ্যা ২ লাখ থেকে কমে ১ লাখ ৩৬ হাজারে নেমে এসেছে।’
তার ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশে ডিম ও মুরগির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরও বেশি দাম গুনতে হবে।
সংগঠনের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে উৎপাদন ব্যয়ের ভিত্তিতে ডিমের ন্যূনতম লাভজনক বিক্রয়মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নিশ্চিত করা। সারা দেশের খামারিদের নিয়ে জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ ও ফার্মার আইডি চালু করা। প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও পোল্ট্রি বীমা চালু করা। পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট কমানো। পাশাপাশি জাতীয় পোল্ট্রি পলিসি-২০২৫ এর খামারিবিরোধী ধারা সংশোধনের দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনটি অবিলম্বে একটি স্থায়ী পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম বা ‘বাংলাদেশ জাতীয় পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ গঠনের আহ্বান জানায়। তাদের মতে, এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। একই সঙ্গে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয়ের স্বার্থই সুরক্ষিত হবে।




