নিঃসঙ্গ কক্ষে শেষ নিঃশ্বাস চিকিৎসকের

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগ। মানুষের কোলাহলের মধ্যেই আজিজ সুপার মার্কেটের একটি কক্ষ কয়েক দিন ধরে ছিল নিস্তব্ধ। বন্ধ দরজার ওপাশে কী ঘটেছে, তা কেউ জানত না। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তেই দরজা ভেঙে সামনে আসে এক মর্মান্তিক দৃশ্য— অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার হন তরুণ চিকিৎসক ফারা ফেরদৌস।
ঘর জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল শতাধিক বই। টেবিল ফ্যান তখনো ঘুরছিল। খাটের ওপর পড়ে ছিল একটি মানিব্যাগ, চিপসের বক্স। বিছানার চাদর ছিল টানটান। আর সেই খাটের ওপর বসা অবস্থায় পাওয়া যায় চিকিৎসক ফারা ফেরদৌসের (৩২) মরদেহ। তবে তার মাথা ঝুঁকে ছিল পাশের একটি চেয়ারের ওপর। মাথায় গামছা প্যাঁচানো, হাতে টিস্যু। দৃশ্যটি যেন এক রহস্যময় নীরবতার সাক্ষী।
ফারা ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএসের চিকিৎসক। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেট ভবনের ১৪ তলার ৮/এম নম্বর ফ্ল্যাটে ২০২২ সাল থেকে একাই থাকতেন।
ভবনের বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে কক্ষটি বন্ধ দেখতে পান। গত শুক্রবার দুপুরে সেদিন ওই কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তখন তারা শাহবাগ থানা-পুলিশ এবং নিহত চিকিৎসকের বোনকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ফারার ছোট বোন চিকিৎসক নুঝুলা ফেরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সেখানে আসে। তারা দরজা ভেঙে ওই কক্ষে প্রবেশ করেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ পড়ে থাকায় তা অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। শরীর ফুলে ও পচে যাওয়ায় বাহ্যিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কক্ষের ভেতরে শতাধিক বই এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। টেবিলে ছিল লাইটার ও সিগারেট। মরদেহের পরনে ছিল একটি ম্যাক্সি, মাথায় গামছা প্যাঁচানো।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি স্ট্রোক করতে পারেন। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা থেকে ঘুমের ওষুধ সেবনের ঘটনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ২৩ জুন ফারা ফেরদৌসের সঙ্গে তার ছোট বোনের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। এর পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিহত ফারা ফেরদৌসের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলায়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুর রশিদ। দুই বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়। রাজধানীতে একাই থাকতেন। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বললেন, কয়েক দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে ওই চিকিৎসকের যোগাযোগ ছিল না। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।




