বিবিএসের প্রতিবেদন
বাড়ছে রেডিও শোনা, কমছে টেলিভিশন দেখা

প্রতীকী ছবি
প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়ে দেশে পরিবারভিত্তিক টেলিভিশনের ব্যবহার কমছে। অন্যদিকে বাড়ছে রেডিও শোনার প্রবণতা। সাধারণত মনে করা হয়, মানুষ এখন আর রেডিও শোনেন না। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন জরিপে উঠে এসেছে এর উল্টো চিত্র।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটোরিয়ামে আইসিটির প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৪-২৫ এর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয় এই তথ্য।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালে দেশে রেডিও ব্যবহার করত ১২.৮ শতাংশ পরিবার। ২০২৪-২৫ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশে। অন্যদিকে, পরিবারভিত্তিক টেলিভিশনের ব্যবহার ৬২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৬ শতাংশে।
‘প্রচলিত রেডিওর বাইরে মোবাইল ফোন বা চার্জার লাইটের মতো ডিভাইসে থাকা রেডিওর ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই হিসাবে। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ আবহাওয়ার খবরের জন্য এখনও নির্ভরশীল রেডিওর ওপর। তবে টেলিভিশনের ব্যবহার কেন কমছে, সেটি বলতে পারছি না’, রেডিওর ব্যবহার বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করছিলেন বিবিএসের কম্পিউটার উইংয়ের পরিচালক কবীর উদ্দিন।
জরিপ অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক মোবাইল ফোনের ব্যবহার ২০২২ সালের ৯৭.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৯ শতাংশে। ল্যান্ড ফোনের ব্যবহার না বাড়লেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পরিবার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যেখানে ৩৮.১ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করত, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জেলা ও বয়সভেদে ফুটে উঠেছে বৈষম্যের চিত্র। এর মধ্যে পরিবারভিত্তিক স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা, আর সবচেয়ে পিছিয়ে পঞ্চগড়। একক জেলা হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহার বেশি কুমিল্লায়। ব্যক্তি ও পরিবার উভয় পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে ঢাকা শীর্ষে এবং সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড়। কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা সবচেয়ে বেশি ঢাকার পরিবারগুলোতে এবং সবচেয়ে কম ঠাকুরগাঁওয়ে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় অংশই মূলত কপি-পেস্টের মতো সাধারণ কাজে এটি ব্যবহার করেন। ইন্টারনেটের প্রকৃত সুবিধার তুলনায় এর কার্যকর ব্যবহার এখনও অনেক কম।
২০২৫ সালের আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্কোর ৬৪.৯। যেখানে বৈশ্বিক গড় স্কোর ৭৮ এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর গড় স্কোর ৬৬। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা (৭১.৪), মিয়ানমার (৬৯.৭) এবং ভুটান (৮৫.৭) এই সূচকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের চেয়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনার জন্য জরুরি সঠিক পরিসংখ্যান। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার।

