পল্লবীতে সাবেক বিএনপি নেতাসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ফের গুলির ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর পল্লবীতে। এবার দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে লক্ষ্য করে নিশানা করে গুলি ছোঁড়া হয়। এতে তিনিসহ পথচারী আরেক নারীও গুলিবিদ্ধ হন।
আহত নারীর নাম রাজিয়া। তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্পের ২ নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। আলমগীর লালবাগ নবাবগঞ্জ ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সদস্য বলে জানা গেছে।
আলমগীরের ছেলে পিয়াল হাসান জানিয়েছেন, তাদের বাসা মিল্লাত ক্যাম্পের বি ব্লকে। বিকালে তার বাবা বাসার পাশের গলিতে একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় স্থানীয় যুবলীগের রুবেল ও বাপ্পাসহ ৪ জন একটি প্রাইভেটকার যোগে এসে তার বাবাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। তাদের ছোঁড়া গুলিতে মাথার ডান পাশে, পেটের ডান পাশে এবং ডান পাছায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসলামিয়া হাসপাতাল পড়ে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন স্বজনরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক সরকার জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা একটি গাড়ি থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আমরা শ্যুটারকে শনাক্ত করতে পেরেছি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শ্যুটার আবারও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বাশীর জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি পূর্বশত্রুতার জেরে গুলি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদ। পুলিশ জানিয়েছিলো, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ ভাড়াটে শ্যুটার নিয়োগ করেছিলেন। তবে হামলায় বাবু বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, স্থানীয় আধিপত্য, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের ব্যবসা, জমি দখল এবং আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ২৫ লাখ টাকার চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করা হয় এবং শ্যুটারদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করা হয়।





