অনলাইনে অর্ডার দিয়ে বিক্রেতাকে জিম্মি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চারজনের চক্র। তারা কখনো অনলাইনে অর্ডার দিয়ে বিক্রেতাকে ডেকে জিম্মি করত। আবার কখনো টার্গেট ব্যক্তিকে ফ্ল্যাট বিক্রির আকর্ষণীয় অফার দিত। এরপর নিজেদের কবজায় এনে হাতিয়ে নিত অর্থ। টাকা দিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত চলত নির্যাতন। তবে চক্রটি শেষে আটকা পড়েছে আইনশৃঙ্খলার জালে। এক মামলায় রিমান্ডে নিয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আরেক মামলায়ও চাওয়া হয়েছে রিমান্ড।
আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসামি রাকিব হাসান, মো. দুলাল, মো. শাহাদাত হোসেন ও পবন সরকার পেশাদার প্রতারক। মাছ অর্ডার করে বিক্রেতাকে নির্যাতনের পর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় গত ১৫ জুলাই খিলগাঁও থানাধীন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন আরেক ভুক্তভোগী চাকরিজীবী সাদ্দাম হোসেন থানায় এসে তাদের শনাক্ত করেন। পরে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আরেকটি মামলায় আবেদন করা হয়েছে তাদের সাত দিনের রিমান্ড।
ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে চা পান করে জ্ঞান হারান চাকরিজীবী
গত ৭ জুলাই কর্মস্থলে বসে দুপুর ২টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির ফোন পান ভুক্তভোগী। ওই ব্যক্তি নিজেকে একটি ডেভেলপার্সের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তখন খিলগাঁওয়ের নবীনবাগ এলাকায় ডেভেলপার্সটির একটি নির্মিত ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রয়ে তাকে আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হয়। সরেজমিনে ফ্ল্যাট দেখতে এবং বিস্তারিত জানার জন্য তাকে যেতে বলা হয়। ফ্ল্যাট দেখতে ওইদিনই বিকাল ৪টার দিকে তিনি ওই এলাকায় যান। তখন তাকে চা খাওয়ার অনুরোধ করা হয়। চা খেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রাত ১০টায় জ্ঞান ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে আটকে রাখা হয়েছে একটি বদ্ধঘরে। চারপাশে দেশীয় অস্ত্র হাতে সাত-আটজন। মোবাইল ফোন, ওয়ালেট তার কাছে নেই।
জানা যায়, তখন চক্রটি ওয়ালেটে থাকা ব্যাংক-কার্ডের পাসওয়ার্ডসহ যাবতীয় তথ্য ও বিকাশের পিন নাম্বার দিতে বলে। অসম্মতি জানানোয় তাকে মারধর করা হয়। হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বাধ্য হন এগুলো দিতে। এরপর প্রথমে তারা আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। পরে ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ৫ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে ৮৪ হাজার ও লংকা বাংলা ফিন্যান্স থেকে ৭০ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকাশ থেকে নেওয়া হয় ৪৫ হাজার টাকা। পরদিন রাত ২টার দিকে তাকে অটোরিকশায় বাসাবো বৌদ্ধমন্দির এলাকায় রেখে যায় প্রতারক চক্র। ৯ জুলাই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ওই ভুক্তভোগী।
অর্ডার করা মাছ পৌঁছে দিতে গিয়ে ব্যবসায়ী জিম্মি
রাজধানীর মধ্য বাড্ডার ‘ফোর স্টার ফিশ গ্যালারি’র মালিক ফয়সাল হোসেন। তিনি অনলাইন ও অফলাইনে দেশি-সামুদ্রিক মাছ সরবরাহ করতেন। গত ১৫ জুন তার হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ দিয়ে ২০ হাজার টাকার দেশি মাছের ক্যাশ-অন ডেলিভারিতে অর্ডার করা হয়। ১৯ জুন অর্ডার করা মাছ নিয়ে তিনি খিলগাঁও যান। সেখানে এক মহিলা তাকে একটি বাসায় নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার সঙ্গেই দরজা আটকে দেওয়া হয়। সেখানে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়। মুক্তিপণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। একপর্যায়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার নিয়ে ৪৯ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ফয়সাল এক ভাইয়ের মাধ্যমে আসামি পবন সরকারের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। এরপর ছাড়া পান তিনি। এ ঘটনায় গত ১৪ জুলাই খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেছেন, ‘আসামিরা চেতনানাশক পদার্থমিশ্রিত চা পান করিয়ে অপহরণ করত। হত্যার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। আসামিদের মধ্যে পবনের দুটি ব্যাংক হিসাবে টাকা ট্রান্সফারের তথ্য মিলেছে। আমরা পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’
আরেকটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক আহসান উল্লাহ জানিয়েছেন, চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে তাদের দেওয়া তথ্যগুলো। মূলহোতাকে খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






