৪ দিন পর আলো ফিরল জাপান গার্ডেন সিটিতে
- ডিপিডিসির দাবি, আবাসনের নিজস্ব উপকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতেই দীর্ঘায়িত হয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অন্যতম বড় আবাসিক এলাকা জাপান গার্ডেন সিটি। সেখানে টানা প্রায় চার দিন ছিল না বিদ্যুৎ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো বাসিন্দা। অবশেষে ১০ জুলাই রাতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এই দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য আবাসন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উপকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিকেই দায়ী করছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, গত ৭ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিপর্যয় ঘটে। ঘটনাটি ঘটে এনওসিএস আদাবর দপ্তরের আওতাধীন ৯ হাজার ৪০০ কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের ৩৩ কেভি গ্রাহক প্রাঙ্গণে। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপরই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। গ্রাহক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে ১১ কেভি ইনকামিং ব্রেকারে ভয়াবহ ফ্ল্যাশিং হয়। এতে পুরো ফিডার ট্রিপ করে যায়।
মুহূর্তেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে জাপান গার্ডেন সিটির ২৬টি বহুতল ভবন এবং টোকিও স্কয়ার শপিং মল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো বাসিন্দা। ঘটনার পরপরই ডিপিডিসির প্রকৌশলীরা জরুরি শাটডাউন দিয়ে বিকল্পভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রাহক প্রান্তের ত্রুটি এতটাই গুরুতর ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে লাইন সচল করা সম্ভব হয়নি।
পরে ডিপিডিসি ও আবাসন কর্তৃপক্ষের যৌথ পরিদর্শনে দেখা যায়, উপকেন্দ্রের ১১ কেভি বাসবারে অতিরিক্ত কার্বন ও আর্দ্রতা জমে আছে। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব টি-১ পাওয়ার ট্রান্সফরমারও বিকল হয়ে গেছে।
ডিপিডিসির ভাষ্য, জাপান গার্ডেন সিটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তাদের নিজস্ব উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী ডিপিডিসি কেবল উপকেন্দ্রের ইনকামিং পয়েন্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। উপকেন্দ্রের ভেতরের সব যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রাহক কর্তৃপক্ষের।
ডিপিডিসির অভিযোগ, ঘটনার পরও আবাসন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোনো দক্ষ জনবল বা পেশাদার কারিগরি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেনি। ফলে মেরামতকাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এ কারণে হাজারো বাসিন্দাকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে বিষয়টি ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নজরে আসে। তার বিশেষ নির্দেশনা এবং ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠকের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।
এরপর ডিপিডিসি নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলীদের দিয়ে উপকেন্দ্রের জটিল কারিগরি ত্রুটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি পেশাদার কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে উপকেন্দ্রের সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে ৯ জুলাই রাত ১১টার দিকে ৩৩/১১ কেভি প্রধান ট্রান্সফরমার চালু করা সম্ভব হয়। এতে অধিকাংশ ভবনে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। তবে জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব একটি ১১ কেভি অভ্যন্তরীণ ফিডারে নতুন ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কয়েকটি ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বিলম্ব হয়।
ডিপিডিসির তত্ত্বাবধানে সেই ত্রুটিও মেরামত করা হয়। এরপর ১০ জুলাই রাত ৮টার দিকে পুরো আবাসন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ শতভাগ স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা। ডিপিডিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাপান গার্ডেন সিটির উপকেন্দ্রে আধুনিক ৩৩ কেভি প্রটেকশন সিস্টেম নেই। ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি হলে তা ডিপিডিসির মূল গ্রিডেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আবাসন কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব উপকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ বিতরণ যন্ত্রপাতির নিয়মিত পেশাদার রক্ষণাবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি।
এদিকে, দীর্ঘ চার দিনের দুর্ভোগে ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য জাপান গার্ডেন সিটির বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ডিপিডিসি।





