‘বাজার করতে এলে দাম শুনে গলা শুকিয়ে যায়’

কারওয়ান বাজারে সবজি বিক্রি করছিলেন মো. আসলাম। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কয়েকদিনের তুলনায় কমেছে কিছু সবজির দাম। বিশেষ করে ভারত থেকে কাঁচা মরিচের সরবরাহ আসায় কমেছে পণ্যটির দাম। তবে সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস ও মুরগির দামে এখনো স্বস্তি নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারদরে ফিরছে না স্বস্তি।
আজ মঙ্গলবার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। অথচ আগের দিনই মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা। এ ছাড়া টমেটো ১৩০ টাকা, শসা ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।
সবজি বিক্রেতা মো. আসলাম আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘আজকে সবকিছুর দাম তুলনামূলক কম। গতকালও মরিচ বিক্রি করেছি ২০০ টাকায়। আজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লে সবাই আমাদের দোষারোপ করে। কিন্তু হঠাৎ করে দাম কমলে আমাদের যে লোকসান হয়, এটা কেউ দেখে না।’
আরেক বিক্রেতা বোরহানের ভাষ্যও একই। ‘ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আসার পর কমে গেছে দাম। রাতে বাজারে ভারতীয় মরিচ নিয়ে ট্রাক আসে। তবে আগে বেশি দামে কেনা মরিচ থাকায় তা কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান হচ্ছে।’
কারওয়ান বাজারে নিয়মিত বাজার করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নজরুল। তিনি বলেন, ‘এরা তো বলছে সবজির দাম কমেছে। কিন্তু বাজার করতে আসলে দাম শুনে গলা শুকিয়ে যায়। মাছ-মাংসের দাম তো সবসময় বেশিই থাকে। এখন সবজি কিনতেও চিন্তা করতে হচ্ছে, টাকায় হবে কি না।’
এদিন মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ২ কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি। ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া ৪-৫ কেজি ওজনের মৃগেল মাছ বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৫৫০ টাকায়।
রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল রহমান বলেছেন, বাজারে এসে মাছ-মাংসের দাম শুনে অনেক হিসাব করে কিনতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমলেও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিন মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, কালার বার্ড ৩০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।
বাজারদর ওঠা-নামার বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের উপপরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন) শামীম আহমেদ হেলাল জানান, বর্তমানে ভারত থেকে নিয়মিত কাঁচা মরিচ আসায় মরিচের দাম অনেক কমেছে। সামনে দাম আরও কমবে বলেও জানান তিনি।
মরিচের মতো সবজি মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়ে আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘যারা এসব পণ্য মজুদ করে বিক্রি করে, তারা অপরাধী। বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে যারা মরিচের দাম বাড়িয়েছিল তারা দেশের জন্য ক্ষতিকর।’
অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে এখন দাম কমে যাওয়ায় তারা লোকসানের কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।








