বাস রুট রেশনালাইজেশন, পুরনো বাসে নতুন পরীক্ষা শুরু কাল

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয়টি রুটে ৮১৬টি বাস নিয়ে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে নতুন উদ্যোগ ‘সিটি পরিবহন’। ২৬ থেকে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব রুটে চলবে বিভিন্ন কোম্পানির বাস। তবে নতুন নয়; পুরনো বাসই একীভূত হচ্ছে নতুন কোম্পানির নামে।
গাজীপুর থেকে নিউ মার্কেট, মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর ও আবদুল্লাহপুরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোকে যুক্ত করবে এই বাসগুলো। এবারও ই-টিকিটিং, চালকদের বেতনভিত্তিক নিয়োগ ও নির্ধারিত রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা শুরুতেই কার্যকর হচ্ছে না। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) রুটভিত্তিক বিবরণী অনুযায়ী, ছয়টি রুটের মধ্যে পাঁচটিতে সাধারণ বাস এবং একটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চলবে।
গাজীপুর–মতিঝিল–নিউ মার্কেট রুটের দৈর্ঘ্য ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার। গাজীপুর, চৌরাস্তা ও টঙ্গী থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হয়ে নিউ মার্কেট পর্যন্ত চলবে ২৫৩টি বাস। ভিআইপি ও বিকাশ পরিবহনের বাস একীভূত হয়ে চলবে ভিআইপি পরিবহন নামে।
মিরপুর–কেরানীগঞ্জ রুটটি ১৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। দিয়াবাড়ি, কাজীপাড়া, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান ও সদরঘাট হয়ে বাবুবাজার সেতু পেরিয়ে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত চলবে ১৩৩টি বাস। দিশারী, তানজিল ও মেট্রোলিংক পরিবহনের বাসগুলো নতুন ব্যবস্থায় পরিচিত হবে ‘চিড়িয়াখানা সিটি বাস’ নামে।
ঘাটারচর–মোহাম্মদপুর–বাসাবো রুটের দৈর্ঘ্য ২৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। বসিলা ও মোহাম্মদপুর হয়ে বাসাবো পেরিয়ে ডেমড়া পর্যন্ত এই পথে চলবে ৭০টি বাস। রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ নামে পরিচালিত হবে বাসগুলো।
ঘাটারচর–কাঁচপুর রুটটি ২৫ দশমিক ০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। বসিলা, মোহাম্মদপুর, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত চলবে ১৫০টি বাস। রজনীগন্ধা, মালঞ্চ, সময় ও মিডলাইন পরিবহনের বাসগুলো একীভূত হয়ে চলবে ফোর স্টার বাস লাইন নামে।
অন্যদিকে, ঘাটারচর–আবদুল্লাহপুর রুটের দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার। মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, শ্যামলী, টেকনিক্যাল, মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ হয়ে পল্লবী, কালশী ও ইসিবি চত্বর পেরিয়ে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত চলবে ১৯০টি বাস। এই রুটে নতুন পরিচয় পাবে পিএনপি সিটি সার্ভিস।
টঙ্গী–ঢাকেশ্বরী রুটের দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার। কলেজগেট, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত ও বসুন্ধরা হয়ে ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত চলবে ২০টি এসি বাস। ঢাকা চাকা নামে পরিচালিত হবে বাসগুলো।
বাস রুট রেশনালাইজেশনের লক্ষ্য— নির্দিষ্ট রুটে বাস চলাচল, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠা-নামা, ই-টিকিটে ভাড়া আদায়, চালকদের বেতনভিত্তিক নিয়োগ এবং মালিকদের মধ্যে লভ্যাংশ বণ্টন নিশ্চিত করা। এতে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা ও যত্রতত্র বাস থামানোর প্রবণতা কমার কথা।
কিন্তু নতুন উদ্যোগের শুরুতে ই-টিকিটিং চালু হচ্ছে না। আগামী দুই মাস ওয়েবিল পদ্ধতিতেই ভাড়া আদায় চলবে। চালকদের বেতনভিত্তিক নিয়োগ ও মালিকদের লভ্যাংশ বণ্টনও এখনই কার্যকর হচ্ছে না। নির্ধারিত রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও স্পষ্টতা নেই।
২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঘাটারচর–কাঁচপুর রুটে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। ১৫৫টি বাস চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও উপযুক্ত বাসের অভাবে শুরুতে ট্রান্সসিলভার ২০টি ও বিআরটিসির ৩০টি দোতলা বাস নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। একই রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ করা যায়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ডিপোসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি লোকসানের মুখে একপর্যায়ে উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বাস চলাচলের অনুমোদিত রুট ৪১৮টি। এর মধ্যে সক্রিয় ৯৮টি। এরমধ্যে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চলবে ‘সিটি পরিবহন’। অন্য রুটগুলোতে আগের মতোই চলবে বাসগুলো।
বিআরটিএ জানিয়েছে, ঢাকার সবগুলো রুটে প্রতিদিন আনুমানিক সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার বাস চলাচল করে। এসব বাসে যাতায়াত করেন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রী।



