লোডশেডিংয়ের ধকল সিগন্যাল বাতিও অচল
- সিটি করপোরেশনের সিগন্যাল বাতিতে আইপিএস ব্যাকআপ
- ডিএমপির বাতিতে নেই বিকল্প ব্যবস্থা
- হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন চালকরা

সংগৃহীত ছবি
শুধু মানুষ নন, দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের ধকল পোহাতে হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিকেও। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এসব বাতি আর বিপাকে পড়ছে যানবাহনগুলো। সিগন্যাল বাতি বন্ধ হয়ে গেলে গাড়ি মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে, নাকি চলতে শুরু করবে, এখন সেটিও ভাবতে হচ্ছে চালকদের।
সবশেষ গত বুধবার রাতে বেশ বিড়ম্বনাতেই পড়তে হয় ঢাকার চালকদের। সেদিন একযোগে বিভিন্ন এলাকায় লম্বা সময় ধরে চলে লোডশেডিং। বেসরকারি চাকরিজীবী সোহাগ অফিস শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। তিনি যখন শাহবাগ, মিন্টো রোড, কারওয়ান বাজার পার হচ্ছিলেন, তখন সেই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বেশ কয়েকটি সিগন্যাল বাতি ছিল বন্ধ। ফলে তিনিসহ অন্য চালকরা পড়েছিলেন বিপদে।
আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘শাহবাগ ও মিন্টো রোড এলাকার সব সিগন্যাল বাতি বন্ধ ছিল অনেক সময়। তখন গাড়ি চলবে, নাকি দাঁড়িয়ে থাকবে, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। দেখলাম কোনো গাড়ি চলছে, আবার কোনোটি দাঁড়িয়ে আছে। এআই ক্যামেরা চালু আছে, নাকি বন্ধ আছে, সেগুলো বোঝা যাচ্ছিল না। যেখানে ৬০ সেকেন্ড অপেক্ষা করার কথা, সেখানে ২ মিনিট অপেক্ষা করলেও উল্টো পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়নি। কোনো পুলিশ সদস্যকেও দেখিনি যে কিছু জিজ্ঞেস করব।’
এ বিষয়ে জানতে কথা হয় বাংলা মোটরে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘শাহবাগ ও মিন্টো রোডের সিগন্যালের কথা বলতে পারছি না। তবে বাংলা মোটরে লোডশেডিং হলেও ব্যাকআপের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের আইপিএসে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়। যা যথেষ্ট, কারণ ঢাকায় এত দীর্ঘ সময় লোডশোডিং হয় না।’
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় সিটি করপোরেশনের অধীন সিগন্যাল বাতিগুলোতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ব্যাকআপ পাওয়া যায়। কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যে সিগন্যাল বাতি লাগিয়েছে, সেগুলোয় কোনো ব্যাকআপ নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান ২ থেকে ১ নম্বরের দিকে যাচ্ছিলেন প্রাইভেট কারচালক রায়হান। সিগন্যালে লাল বাতি থেকে সবুজ বাতি হওয়া মাত্রই চলতে শুরু করল তার গাড়ি। ঠিক সে মুহূর্তেই হলো লোডশেডিং আর বন্ধ হয়ে গেল সিগন্যাল বাতি। সেই মুহূর্তে চালক রায়হান কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি সবার মতো সিগন্যাল পার করলেন।
সে প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, ‘সিগন্যালে সবুজ বাতি জ্বলছে, মাঝপথে হঠাৎ সব সিগন্যাল বাতিই বন্ধ হয়ে গেল। বোঝার উপায় নেই কী করব, পরে সব গাড়ির সঙ্গে আমিও সিগন্যাল পার হলাম।’
ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জিয়াউর রহমান বললেন, ‘গুলশানের সব সিগন্যাল বাতি সিটি করপোরেশনের অধীন। এখানে লোডশেডিং হলে ব্যাকআপ হিসেবে আইপিএসের ব্যবস্থা রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইপিএস বিকল হয়ে পড়লে আমাদের ম্যানুয়াল সিস্টেমে কার্যক্রম চালাতে হয়।’
কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট ও বিজয় সরণি এই তিনটি সিগন্যাল সিটি করপোরেশনের অধীনে হওয়ায় এগুলোতে আইপিএসের ব্যাকআপ রয়েছে, জানালেন ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) তানিয়া সুলতানা। তবে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে বিপদে পড়তে হবে বলেও আশঙ্কার কথা বললেন।
লোডশেডিংয়ে ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি বা লোকসান হবে কি না, জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘ঢাকার সড়কগুলো আমরা সিগন্যাল বাতির আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছি। সিটি করপোরেশন ও ডিএমপি থেকে সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়। সেক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সিগন্যাল বাতিতে আইপিএসের ব্যাকআপ রয়েছে। তবে ডিএমপি থেকে যে সিগন্যাল বাতি করা হয়েছে, সেগুলোতে ব্যাকআপ নেই।’
লোডশেডিংয়ে সিগন্যাল বাতি বন্ধ হয়ে গেলে ট্রাফিক পুলিশ ম্যানুয়ালি দায়িত্ব পালন করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, মধ্যরাতে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তিন ধাপে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টাই ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






