কালকের মধ্যে মামলা না তুললে তোর লাশ পড়বে, এজেআর কুরিয়ারের ব্যবস্থাপককে হুমকি

গত ২০ অক্টোবার সন্ধ্যায় হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ারে হামলা করে দুর্বৃত্তরা
রাজধানীর হাজারীবাগের বড়ইখালীতে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হুমকিদাতারা বাদীকে বলেছেন, ‘এক দিনের মধ্যে (শনিবার) সমঝোতা না করলে বা মামলা না তুললে লাশ পড়ে থাকবে।’
গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়। ফোনে তাকে বলা হয়, ‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার সন্ধ্যায় বাদীর দেওয়া তথ্য তুলে ধরে হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন আগামীর সময়কে বললেন, ‘শুক্রবার রাতে একটি নম্বর থেকে ফোন করে শনিবারের মধ্যে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটির কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি জানালেন, হুমকিদাতার নম্বরটি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ধরমনাথ সুরমা চা-বাগানের এক নারী শ্রমিকের নামে নিবন্ধিত। ওই নারী একজন দরিদ্র হিন্দু চা-শ্রমিক। আসল পরিচয় গোপন করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিমটি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ওই নম্বর থেকে শুধু হুমকি দেওয়ার একটি মাত্র ফোনই করা হয়েছে।
ওসি মোশাররফ হোসেন আরও জানান, বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড তাদের হাতে এসেছে এবং তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মূল ঘটনা ও মামলার পাশাপাশি হুমকির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন রিমান্ডে রয়েছেন, তিনজন কারাগারে।
হুমকির বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আফসারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল আসামি সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম নিয়ে তাদের নেতৃত্বেই কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়-গুদামে হামলা চালানো হয়েছিল। এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবার) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে’ বলে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর শেষে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ও সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।



