জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত নিয়োগ, স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিকল্পনা
- জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অবৈধ ক্লিনিক বন্ধে কঠোর অবস্থান

ছবি: আগামীর সময়
দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টের শূন্য পদে নিয়োগ, হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
আজ রবিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যসেবার প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা হবে। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং নদীবেষ্টিত অঞ্চলে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।’
তিনি জানান, করোনা টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলেও বর্তমানে হামের প্রকোপ মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমে যাওয়াকে হামের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এন্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের সাময়িক ঘাটতির কথা স্বীকার করেন সাখাওয়াত হোসেন। বলেছেন, ‘টেন্ডার জটিলতা থাকলেও স্পট পারচেজ ও বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের অপচয় রোধে একটি ভায়াল থেকে চারজনকে ডোজ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।’
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি জেলা সদরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাপ্রবণ এলাকায় রোগবালাই বিস্তার এবং ওষুধের ভেজাল ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ‘বিভিন্ন জেলায় অননুমোদিত ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি ভেজাল ওষুধ ও কিছু আয়ুর্বেদিক পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।’
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়—রোগ প্রতিরোধ, সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ব্রেস্ট ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও কিডনি রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’
স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করতে সরকার ১ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে ৮ হাজার কর্মী গ্রাম পর্যায়ে মায়েদের সচেতন করতে কাজ করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘মাদকাসক্তি এখন গ্রামীণ সমাজে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ সমাজকে রক্ষায় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই হবে মূল শক্তি।’




