ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে তামাকজাত পণ্যে কর বাড়ানোর দাবি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচাতে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও করবৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সানজিদা ইসলাম তুলি বলেছেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফার লোভে তরুণদেরকে আসক্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। এই তামাক কোম্পানিকে লাভবান রেখে আর যাই হোক, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর তেমনি তামাক নিয়ন্ত্রণেও তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমি সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপন করব। সেই সঙ্গে আমি সরকারকে এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ৩৫.৩ শতাংশ, যা ভারতে ২৮.৬ এবং পাকিস্তানে ১৯.১ শতাংশ।
গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের (গ্যাটস, ২০১৭) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্যমতে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যায়। পঙ্গুত্ব বরণ করে আরও কয়েক লাখ মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। পক্ষান্তরে, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার এবং ক্ষয়ক্ষতি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর আহরণ সহজীকরণের জন্য বাজারে বিদ্যমান সিগারেটের স্তর চারটি থেকে নামিয়ে তিনটিতে এনে মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে সভায় অভিমত উঠে আসে।
তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘বাজারে চাল-ডাল, তেল-নুন সবকিছুর দামই বাড়ছে, কিন্তু বিড়ি-সিগারেটের দাম তেমন বাড়ে না। তাই এগুলো এখনো সবার, বিশেষ করে তরুণ আর নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালেই রয়ে গেছে। এজন্য তামাকসেবন কমছে না, বরং আরও বাড়ছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমার দাবি— তামাকপণ্যের দাম বাড়ান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেছেন, ‘দেশে তামাকপণ্যের খুচরা মূল্য বা ভিত্তিমূল্য খুবই কম। তাই কর হার বেশি হলেও তা তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে তেমন কোনো অবদান রাখে না। এই ত্রুটিপূর্ণ কর কাঠামোই স্ববিরোধ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো রাজস্ব বোর্ডকে কর না বাড়ানোর ব্যাপারে প্রভাবিত করে থাকে।’
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম ও ইয়ূথ ফোরামের সদস্যরা।






