স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ঢাকায় টোমবি-অ্যাপোলো হাসপাতালের আলোচনা

সংগৃহীত ছবি
স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং এ রোগ নিয়ে সামাজিক সংকোচ দূর করতে ঢাকায় সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে টোমবি লজিস্টিকস অ্যান্ড কনসালটেন্সি। ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো স্পেশালিটি হাসপাতালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
‘স্তন ক্যানসার: লক্ষণ জানুন, দ্রুত শনাক্ত করুন, জীবন বাঁচান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন অ্যাপোলো স্পেশালিটি হাসপাতালের স্তন ক্যানসার সার্জন ডা. উষা গুপ্ত এবং মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. নিরঞ্জন বিজয়ারাঘবন। এতে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রায় ৪০ জন নারী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উদ্যোক্তা, করপোরেট পেশাজীবী ও গৃহিণীরা।
আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নারীদের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে স্তন ক্যানসার নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও প্রচলিত ট্যাবুর কারণে অনেক নারী এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দ্বিধা করেন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নারীদের জন্য সহায়ক ও উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করাও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ছিলেন অ্যাপোলো হাসপাতালস, চেন্নাইয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক রাগিল রঘুনাথ। তিনি বলেন, ‘স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা জনগণকে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ সম্পর্কে সচেতন করতে, নারীদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণে উৎসাহিত করতে চাই।’
রাগিল রঘুনাথ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। স্তনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এবং মানুষকে নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করতে টোমবি কনসালটেন্সির সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
টোমবি লজিস্টিকস অ্যান্ড কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বিন্তি স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ রোগ নিয়ে সামাজিক সংকোচ দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য অ্যাপোলো হাসপাতালকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি নারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল জেসিআই সিগনেচার, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা রয়্যাল, টিপিবি ও রেবকো কনসালটেশন। নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্তন ক্যানসার নিয়ে ইতিবাচক ও খোলামেলা আলোচনা উৎসাহিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করে।
ঢাকার হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টার বাই আইএইচজিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে উৎসাহ প্রদান এবং নারীদের নিজেদের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।




