প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা চালুর প্রচারণা শুরু

ছবি: আগামীর সময়
দেশে প্রথমবারের মতো অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা চালুর পক্ষে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাত সপ্তাহব্যাপী এ প্রচারণা চালানো হবে।
আজ রবিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ প্রচারণার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
প্রধান অতিথি মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাদ্য ও পানীয়, যেগুলোতে অতিরিক্ত চিনি, লবন ও সম্পৃক্ত চর্বি ব্যবহার করা হয়, সেসব খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা যা ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেল (এফওপিএল) ওয়ার্নিংয়ের মতো প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নও আমাদের উদ্দেশ। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেছেন, প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা থাকলে কোন পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে, তা সহজে শনাক্ত করতে পারবেন ভোক্তারা। এতে খাবার নির্বাচনে সচেতনতা বাড়বে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য কেনার প্রবণতা কমবে। খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের সতর্কবার্তা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি হিসেবে বিবেচিত।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে আয়োজকেরা জানান, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ অতিরিক্ত ওজন এবং ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ স্থূলতায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
আয়োজকরা জানান, সাত সপ্তাহব্যাপী এ প্রচারণা পরিচালিত হবে। প্রচারণার অংশ হিসেবে ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ প্রচার করা হবে। প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের (সিএলপিএ) সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
কোয়ালিশন অব হেলদি ফুড, সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, প্রজ্ঞা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যৌথভাবে এ প্রচারণার আয়োজন করেছে।



