জামাই আদরেই ‘ট্রাম্প’, যত্নে পড়েনি ভাটা

চিড়িয়াখানায় মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
কোরবানির ঈদের আগে বেশ আলোচনায় এসেছিল অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে পরবর্তী সময়ে মহিষটির ঠাঁই হয় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। সম্প্রতি সামাজিক সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়, চিড়িয়াখানায় অবহেলা ও অনাদরে দিন কাটছে প্রাণীটির। তবে এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষটিকে কোনো অনাদর করা হচ্ছে না। সে আগের মতোই স্বাভাবিক ও সুস্থ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া মহিষের অসুস্থতা বা অযত্নের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি বলছিলেন, ‘আগে মহিষটি দৈনিক ২৫ কেজি নেপিয়ার জাতের ঘাস এবং ৫ কেজি ছোলা-ভুসি খেত। বর্তমানেও তাকে একই পরিমাণ খাবার দেওয়া হচ্ছে। মহিষটির স্বাস্থ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।’
আজ শুক্রবার সরেজমিনে জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, খাঁচায় স্বাভাবিকভাবেই বসে আছে মহিষটি। খাবারও খাচ্ছে। ছুটির দিন হওয়ায় অন্যদিনের তুলনায় ‘ট্রাম্প’কে দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মিরপুর থেকে ছয় বন্ধু এসেছিলেন ‘ট্রাম্প’কে দেখতে। তাদের একজন রাশেদ বলছিলেন, ‘বন্ধুরা একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় মহিষটিকে নিয়ে কথা উঠেছিল। আজ সকালেই ফেসবুকে কয়েকটি পোস্টে দেখলাম চিড়িয়াখানায় মহিষটিকে নাকি অযত্নে রাখা হয়েছে। আড্ডার মাঝেই সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের চোখে দেখে আসব।’
‘চিড়িয়াখানা বন্ধ হয়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়, আর আমরা এসে পৌঁছেছি বিকেল ৫টায়। ঢুকেই জিজ্ঞেস করতে করতে সোজা চলে এসেছি “ট্রাম্প”র খাঁচার দিকে। এসে দেখলাম অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করে আছেন তাকে দেখার জন্য। আর “ট্রাম্প”ও তো বেশ সুস্থ আছে’, যোগ করেন তিনি।
পরিবার নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিব খন্দকার। তিনি বলেছেন, ‘পরিবার নিয়ে মিরপুরেই থাকি। অফিসের ছুটির দিনে বিকেলে মাঝে মাঝে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসি। আগে এখানে এলে মেয়ে শুধু বাঘ আর সিংহ দেখতে চাইত। কিন্তু টেলিভিশনে “ট্রাম্প” নামের মহিষটিকে বারবার দেখার পর, এবার এসেই বায়না ধরেছে—সিংহ নয়, আগে দেখবে “ট্রাম্প”কে। আজ এখানে আসার পর সে অন্য কোনো প্রাণীর কাছে যেতেই চাচ্ছে না। শুধু বলছে, “ট্রাম্প” অনেক দূরে, আমি ভেতরে গিয়ে একদম কাছ থেকে দেখব।’
মহিষটিকে রাখা চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচার সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. উজ্জ্বল জানালেন, সকাল থেকেই ওই খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। মহিষটি আগের মতোই সুস্থ আছে এবং খাবারও খাচ্ছে।
চিরিয়াখানায় ঠাঁই
মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঠাঁই হওয়া আলোচিত মহিষটি বেড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার জিয়া উদ্দিন মৃধার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’। এর আগে খামার মালিক জিয়া উদ্দিন জানিয়েছেন, মহিষটির মাথার ‘অসাধারণ ও অদ্ভুত চুল’ দেখেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে মহিষটিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। এরইমধ্যে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের কাছে বিক্রি করেন খামারি জিয়া উদ্দিন মৃধা।
তবে ঈদের আগের দিন (বুধবার) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে মহিষটিকে মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। প্রথমে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও, আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটির স্থায়ী ঠিকানা হয় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। তখন থেকেই চিড়িয়াখানার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।






