এক মাসে পৌনে ৪ লাখ লিটার তেল জব্দ, কঠোর হুঁশিয়ারি জ্বালানিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি
সারাদেশে গত এক মাসে ৪ হাজার ৮২৪টি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন সরবরাহযোগ্য ডিজেল মজুত আছে।
‘জ্বালানির কোনো সংকট নেই, তবে বাজারে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা রয়ে গেছে। অস্বাভাবিক মজুতের এই প্রবণতাই ফিলিং স্টেশনে প্রভাব ফেলছে। গ্রাহকরা মজুতের প্রবণতা পরিহার করলে কোনো সমস্যা হবে না’, বলছিলেন জ্বালানি বিভাগের সচিব।
কৃষকদের সেচ মৌসুমে ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুগ্ম সচিব জানান, আজ ডিসিদের সাথে অনলাইন মিটিংয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে এদিন সকালে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৈঠকে সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে তিনি কঠোর নির্দেশ দেন।
স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিফ্রিংয়ে আরও জানানো হয়েছে, কোনো কোনো যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাস অ্যাপ চালু করা হবে।
বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার উল্লেখ করে যুগ্ম সচিব জানালেন, ‘জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহও নিশ্চিত করা হবে।’

