‘ভাগনের স্ত্রীকে’ নিয়ে ‘হানি-ট্র্যাপ চক্র’ চালাতেন মামা, হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে বিত্তবান ও ব্যবসায়ী পুরুষদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত ‘হানি-ট্র্যাপ’ চক্রের হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগ। তুরাগ থানার একটি আবাসিক ভবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
আজ রবিবার ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর চক্রের অপকর্মের বিস্তারিত তুলে ধরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন জিত ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। এদের মধ্যে জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী বা মূল হোতা বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি।
ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির প্রধান ৩৮ বছর বয়সি জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান তার ‘ভাগনে ও ভাগনের স্ত্রীকে’ নিয়ে চক্রটি চালাতেন।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন, ৩টি ফাঁকা চেক এবং ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালানোর কাজে ব্যবহৃত একটি ‘টর্চার বেল্ট’ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি প্রধান তার ব্রিফিংয়ে জানান, চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে ও সুপরিকল্পিতভাবে তাদের প্রতারণার জাল বিস্তার করত। চক্রের নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নাম ও আকর্ষণীয় আইডি খুলে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও প্রেমের অভিনয় করত।
তিনি আরও জানান, প্রেমের জালে ফেলার পর কৌশলে তাদের পূর্বনির্ধারিত কোনো বাসা বা নিরিবিলি হোটেল কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। ভুক্তভোগীরা সেখানে পৌঁছানোর মাত্রই চক্রের পুরুষ সদস্যরা অতর্কিত হাজির হয়ে তাদের জিম্মি করত। এরপর শুরু হতো নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং জিম্মি অবস্থায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ। পরবর্তী সময়ে এই গোপন ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করা হতো বড় অংকের টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একবার অর্থ আদায়ের পরও ব্ল্যাকমেইলের এই চক্রব্যূহ থেকে রেহাই মিলত না; বরং দফায় দফায় টাকা দাবি করে নিঃস্ব করা হতো ভুক্তভোগীদের।
গোয়েন্দা প্রধান আরও উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি চরম চতুরতার আশ্রয় নিত। তারা ঘন ঘন তাদের আস্তানা ও আবাসিক বাসা পরিবর্তন করত। এ ছাড়া পুলিশ ও সাইবার টিমের চোখ এড়াতে সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত সিম এবং ছদ্মবেশী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত এই প্রতারকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান সাফ জানিয়ে দেন, এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের বিরুদ্ধে ডিএমপির গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নগরবাসীকে আরও অধিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো নাগরিক এ ধরনের কোনো প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা হয়।



