৬,৬০০ এমএফএস অ্যাকাউন্টের সিম জব্দ, গ্রেপ্তার ৬

সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ জন গ্রেপ্তার- সংগ্রহীত
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে জড়িতদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে থেকে ৬ হাজার ৬০০টি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম। এ ছাড়াও জব্দ করা হয়েছে ৬৭টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস।
গ্রেপ্তাররা হলেন আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সাইবার নজরদারিতে অনলাইনে পরিচালিত একাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করার পর দেখা যায়, এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেনে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপের লেনদেন পরিচালনায় বিদেশি নিয়ন্ত্রিত গুগল পে, পে কাশমা, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্সই পে ও কোল পেসহ বিভিন্ন পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশে লেনদেন সম্পন্ন করতে তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় সহজ হওয়ায় বেশি ব্যবহার করে এমএফএস অ্যাকাউন্ট।
ডিবির দাবি, জুয়ার অর্থ প্রথমে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে সেই অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউএসডিটিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়।
তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট সিস্টেমে প্রায় ২০০টি পেমেন্ট কোম্পানি সক্রিয়। এর মধ্যে গ্রেপ্তারদের নিয়োগকারী গুগল পে-এর দৈনিক লেনদেন পাঁচ কোটি টাকার বেশি। আর দেশের অনলাইন জুয়ার বাজারে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয় বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে তারা।
ডিবির ভাষ্য, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশ অংশের মূল সমন্বয়কারী। তিনি চীনা নাগরিক ‘নাথান’ ওরফে ‘অ্যালিন’ (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তির হয়ে কাজ করতেন। চীনা ওই চক্র আগে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও বর্তমানে চীন থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ২ থেকে ১ শতাংশ কমিশন পেত তাদের চক্র। সেই অর্থের একটি বড় অংশ এমএফএস এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও), সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। তাদের আবাসন, খাবার ও যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করত বিদেশি পেমেন্ট কোম্পানি।
ডিবি আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি ৩০০ ফিট এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়া একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির মালিকও আরিফুল ইসলাম রিফাত। তার নামে আরও একটি বিএমডব্লিউ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধে ব্যবহৃত সম্পদ জব্দে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানায় ডিবি।




