রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা কাল

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সকাল ১০টায় এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
‘অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার’ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এই সভার আয়োজন করেছে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থনীতিবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার এবং শিল্পপতি আবুল কাশেম হায়দার।
এ ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদগণ এতে অংশ নেবেন। স্মরণসভার আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম দেশের সর্বস্তরের গুণীজন ও আগ্রহীদের এই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
এমাজউদ্দীন আহমদের বর্ণাঢ্য জীবন
১৯৩৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার মালদহে জন্মগ্রহণ করা এই মহান মনীষী ছিলেন দেশের শিক্ষা ও গণতন্ত্রের অন্যতম বাতিঘর। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং কারাবরণ করেন।
শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এমাজউদ্দীন আহমদ দেশের বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ২১তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরগ্রহণের পর তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউডার’ উপাচার্য এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দীর্ঘ চার দশক গবেষণা করা এই শিক্ষাবিদের অর্ধশতাধিক গ্রন্থ এবং শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়াও তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্বর্ণপদক, শেরে বাংলা স্মৃতি স্বর্ণপদকসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ২০২০ সালের ১৭ জুলাই ৮৬ বছর বয়সে এই প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী মৃত্যুবরণ করেন।




