কান্নার শব্দে থামল আনসারের পা, শিশুটি ফিরে পেল স্বজন

সংগৃহীত ছবি
চারদিকে মানুষের ভিড়। বিমানবন্দরের হাজারও রকমের ব্যস্ততা। এর মধ্যেই একা দাঁড়িয়ে কান্না করছিল ছয় বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। পাশে নেই মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন। ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া শিশুটির কান্না শেষ পর্যন্ত শুনতে পান কর্তব্যরত আনসার সদস্য মো. মিজানুর রহমান। এরপরই শুরু হয় শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মানবিক চেষ্টা। পরে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের কাছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তার স্বজনরা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টা ২৫মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিং এলাকায় কান্নারত ও অভিভাবকবিহীন অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান আনসার সদস্য। শিশুটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিজের হেফাজতে নেন। পরে বিষয়টি শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। শিশুটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় তার স্বজনদের খোঁজ। পাশাপাশি মাইকিং করে শিশুটির অভিভাবক ও স্বজনদের সন্ধান করা হয়।
অবশেষে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় শিশুটির মামা মো. সুমন মাতব্বরকে শনাক্ত করা হয়। পরে শিশুটিকে ডিএসও অফিসে নিয়ে যথাযথ পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তার মামার কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটির স্বজনরা জানান, ব্যস্ত বিমানবন্দরে মুহূর্তের অসতর্কতায় শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার পর তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন। আনসার সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদে রাখেন এবং খুঁজে বের করেন পরিবারের সদস্যদের। তাদের এই মানবিক সহযোগিতা কখনো ভুলবেন না তারা।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো আশিকউজ্জামান জানিয়েছেন, শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোও যে দায়িত্বের অংশ, বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের এই তৎপরতা যেন তারই আরেকটি মানবিক উদাহরণ। আনসার সদস্যরা দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও মালামাল উদ্ধার এবং বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তায় নিয়মিতভাবে মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।




