রাজধানীতে এখনো খোলেনি অনেক সবজির দোকান

বাজারে ক্রেতার চাপ কম থাকায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় অধিকাংশ সবজি এখন ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে রাজধানী এখনো পুরোপুরি চেনা রূপে ফেরেনি। ঈদের চতুর্থ দিনেও ঢাকার বাজারগুলোতে অর্ধেকের বেশি সবজির দোকান বন্ধ রয়েছে।
তবে বাজারে ক্রেতার চাপ কম থাকায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় অধিকাংশ সবজি এখন ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। যা ঈদের আগে আরও চড়া ছিল। সবজির পাশাপাশি মুরগি ও ডিমের বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর মুগদা ও মানিকনগর এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা ও দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত ঈদের পরপরই কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটোসহ কিছু পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বরং বেশ কিছু পণ্যের দাম ঈদের ছুটির মধ্যে আগের চেয়ে কমেছে।
সরেজমিনে মানিকনগর স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অন্তত ২০টি সবজির দোকান থাকলেও মাত্র ৭-৮টি দোকান খোলা রয়েছে, বাকি সবগুলোই বন্ধ। একই চিত্র দেখা গেছে মুগদার সবজির বাজারেও। সেখানেও অর্ধেকের বেশি সবজির দোকান খোলেনি।
তবে দোকান বন্ধ থাকলেও সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। ঈদের আগে যেসব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নাম এসেছে। বাজারে এখন সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়শ, যা প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়।
এ ছাড়া পেঁপে, সাদা বেগুন, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙে, ধুন্দল ও উস্তা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। প্রতি কেজি করলা, কাঁকরোল, কালো গোল বেগুন ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। প্রতি পিস লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় এবং কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা কেজি দরে।
সাধারণত ঈদের পর প্রথম ৩-৪ দিন কাঁচা মরিচ, লেবু, শসা, গাজর ও টমেটোর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তবে এবার এসব পণ্যের দাম বেশ স্থিতিশীল। ঈদের আগের তুলনায় প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। আর লেবু আগের মতোই প্রতি হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির বাজারের চেয়েও বেশি স্বস্তি দেখা গেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ঈদের দুদিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এখন একলাফে কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকায় এবং কক মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৩৮০ টাকা দরে।
অন্যদিকে, ডিমের দামও ঈদের পর কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ডজনপ্রতি ১৫ টাকা কমে মাত্র ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।






