মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা আজ

মহাসপ্তমীতে পূজামণ্ডপে ভক্তদের ভিড়। দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজনে উৎসবের আনন্দে মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে -শামীম-উস-সালেহীন
শারদীয় দুর্গাপূজার আজ সোমবার মহাষ্টমী। এদিন পূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘কুমারী পূজা’। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীত্বের রূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে প্রতি বছরের মতো এবারও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে এবার সপ্তমী তিথি দুদিন থাকায় গতকাল রবিবার দুর্গাদেবীর শুক্লা মহাসপ্তমী বিহিত অধিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবশ্য মহাসপ্তমীর মূল আনুষ্ঠানিকতা গত শনিবার সকালেই শুরু হয়।
মূলত দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে মহামায়ার ষষ্টক, অর্থাৎ ছয় বছরের কুমারী রূপ ‘উমা’র পূজা করা হয়। তবে এদিন মন্দিরে ১ থেকে ১৬ বছরের যেকোনো হিন্দু অবিবাহিত কুমারী কন্যাকে মাতৃরূপে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে পূজা করা হয়। আর এই পূজিত কুমারী কন্যারই নামকরণ করা হয় ‘উমা’। ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। শ্রী রামকৃষ্ণের বাণীতে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে প্রতি বছরই আড়ম্বরপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা উদযাপন করেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী। ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমারী পূজা শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। সাধারণত আধঘণ্টার মধ্যে এই পূজা সম্পন্ন হয়ে থাকে। এর আগে মহাষ্টমী পূজা শুরু হবে প্রত্যুষ ৫টা ৩০ মিনিটে, পুষ্পাঞ্জলি হবে সকাল ৯টায়।
আগামীকাল মঙ্গলবার মহানবমী তিথিতে মহানবমী বিহিত পূজা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। বুধবার দশমী তিথিতে দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।



