সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন হচ্ছে না, অনুমোদন পেল ১৪ প্রকল্প

সংগৃহীত ছবি
সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় উপস্থাপিত হলেও পাস হয়নি প্রকল্পটি।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া সচিবালয় প্রাঙ্গণে অধিকসংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলান, জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সরকারি অর্থের যথাযথ উপযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও ছিল এতে। তবে অনুমোদন না পাওয়ায় থমকে গেল নতুন ভবন নির্মাণের এ প্রকল্প।
এদিকে ২১ তলা ভবনের প্রকল্পটি পাস না হলেও আজকের একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রকল্প রয়েছে ৪টি।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- নগর জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, জলবায়ু অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসে সহনশীল অবকাঠামো (রিভার), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ, ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা), বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন, রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন, মধুখালী-কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




