ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তে গ্রাউন্ডেড হওয়া থেকে রক্ষা পেল বিমানের বোয়িং ৭৮৭

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা থেকে রোম যাচ্ছিল ফ্লাইটটি। সবকিছু ঠিকঠাক, শুধু ওড়ার অপেক্ষা। আরেকটি প্লেন ল্যান্ড করছিল। সেটা রানওয়ে পার হয়ে পার্কিং এরিয়ায় গেলেই বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজটি উড়বে। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যাপ্টেন মনিটরে দেখতে পেলেন চাকার হাওয়া কম। উড্ডয়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও তিনি ঝুঁকি না নিয়ে বিমানটিকে থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে উড়োজাহাজটি পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে নিয়ে টায়ার পরিবর্তন করা হয়। এরপর ফ্লাইটটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।
ঘটনাটি গতকাল বৃহস্পতিবারের। বিজি ৩৫৫ ফ্লাইটটির ঢাকা থেকে রোমে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত। ক্যাপ্টেন ছিলেন বাসিত মাহতাব আর ফার্স্ট অফিসার বা পাইলট ছিলেন আদিব হাসীন।
বিমান কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টায়ারের চাপ কমার সংকেত পাওয়ার পর ক্যাপ্টেন পরীক্ষা করে দেখেন, চাপ ক্রমাগত কমছে। এতে তার সন্দেহ হয়, টায়ারে ফুটো হয়েছে। বিষয়টি নিছক কোনো সেন্সরের ত্রুটি নয়, বরং বাস্তব সমস্যা বলে মনে হওয়ায় তিনি উড্ডয়ন না করার সিদ্ধান্ত নেন।
বিমান কর্মকর্তারা জানান, রানওয়েতে প্রবেশের প্রস্তুতির সময় ক্যাপ্টেন টায়ারের চাপ কমার সংকেতটি দেখতে পান। তখন আরেকটি উড়োজাহাজ অবতরণ করছিল। সেটি অবতরণের পর বিমানের উড়োজাহাজের রানওয়েতে প্রবেশের কথা ছিল। এর মধ্যেই টায়ারের চাপ কমার বিষয়টি নজরে আসে ক্যাপ্টেনের।
বিমান কর্মকর্তারা আরও জানান, ক্যাপ্টেনের নির্দেশে বিমানের পাইলট দেখতে পান, তা আরও কমছে। এরপর ক্যাপ্টেন প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ফার্স্ট অফিসারকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানিয়ে উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।পরে উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে নিয়ে টায়ার পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টায়ারের চাপ কমার বিষয়টি উপেক্ষা করে উড্ডয়ন করলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টায়ারে একটি স্ক্রু ঢুকে যাওয়ায় বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের পর ঢাকায় ফিরে আসতে হলে প্রায় ৩৫ টন জ্বালানি ফেলে দিতে হতো। প্রকৌশল বিভাগের একটি নোটের বরাত দিয়ে তারা জানান, এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার জ্বালানি অপচয় হতে পারত।
আর রোম পর্যন্ত যাত্রা অব্যাহত রাখলে সেখানে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইট পরিচালনা এবং বিকল্প উড়োজাহাজের সংকটসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টায়ারের চাপ কমার সংকেত পাওয়ার পরও উড্ডয়ন করা হলে অবতরণের সময় টায়ারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারত। এতে পাশের আরেকটি টায়ারও পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারত। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মাটিতে থাকতেই সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
উড়োজাহাজের চেকলিস্টে টায়ারের চাপসংক্রান্ত সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে কী করতে হবে, তা বুঝতে পরিস্থিতি ও নির্দেশনার যথাযথ ব্যাখ্যা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, আকাশে উড্ডয়নের পর কোনো সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা আর মাটিতে থাকা অবস্থায় উড্ডয়নের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি এক নয়।
প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে টায়ার পরিবর্তনের পর ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়। বিমানের একজন সাবেক ক্যাপ্টেন আগামীর সময়কে জানান, শেষ মুহূর্তে উড্ডয়ন না করার ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তে জ্বালানি অপচয় ও বিদেশের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ আটকে পড়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো গেছে। গ্রাউন্ডেড হলে নানামুখী জটিলতায় পড়ত বিমান। ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে বিমান। কায়দা এ ধরনের ঘটনায় ক্যাপ্টেনদের উৎসাহ দেওয়া উচিত, যার নজির বিমানে নেই।



