Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
পরিবেশবান্ধব চুলা ছড়িয়ে দেন কবুলজান
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় জাতীয়

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে কেউ ফেরে, কেউ হয় ফেরার

সাইফুল ইসলাম
সাইফুল ইসলাম
agamir somoy
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে কেউ ফেরে, কেউ হয় ফেরার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

ইরানের উত্তর অঞ্চলের শহর নূর। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা হত্যাকারী তরুণ বিলালের গলায় দড়ি পরানো। ঠিক সেই মুহূর্তে নিহত সন্তানের মা সামেরেহ আলিনেজাদ হত্যাকারীর গালে চড় মেরে চিৎকার করে বলেছিলেন— ‘আমি তোকে ক্ষমা করে দিলাম!’ এরপর ঘাতকের মায়ের সঙ্গে বুক মিলিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি— শত অপরাধের পরও মায়ের হৃদয় তো একই সুতোয় বাঁধা!

কিন্তু পৃথিবীর সব দৃশ্য সমবেদনায় শেষ হয় না। আমাদের দেশের বাস্তবতায় ক্ষমার মঞ্চ নেই, আছে লোহার গরাদ। যে সন্তান কখনো মাকে ছাড়া রাতে ঘুমায়নি, তাকে রেখে আসতে হয় সংশোধনাগারের বন্ধ প্রকোষ্ঠে।  অন্যায় তা যতই গুরু হোক, সন্তানের অপরাধ যত ভয়াবহ রূপই নিক— মা ছাড়া সেই শিশু যে কোথাও সুরক্ষিত নয়, তা আরেকবার মনে করিয়ে দেয় গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র।

১৩ অক্টোবর, বেলা ১১টা। টঙ্গী শিশু উন্নয়ন সংশোধনাগারের মূল গেটের সামনে মধ্যবয়সী এক মা বসে ছিলেন অপলক দৃষ্টিতে। কোলে কেক, কলা, চিপস আর হরেক রকমের খাবারের প্যাকেট। হত্যা মামলায় বন্দি ১৬ বছরের কিশোর ছেলে রাহাতকে এক নজর দেখার আকুল অপেক্ষা। বুকফাটা আক্ষেপ নিয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘মার্ডার মামলা হোক বা অন্য মামলা, ছেলেটা তো আমারই। যে থাকত এক রুমে, এখন ২০ জন মিলে থাকে এক জায়গায়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা থেকেই আজ আমার ছেলে হত্যা মামলার আসামি।’

মাত্র কয়েক গজ দূরেই কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা রিকশাচালক বাবা রিপন মিয়া প্রিয় সন্তানের টানে ছুটে এসেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি ১৬ বছরের ছেলে সাব্বির হোসেনকে দেখতে সপ্তাহে দু-তিনবার আসেন তিনি। সঙ্গে সাব্বিরের মা ও ছোট বোন। রিকশাচালক বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন, ‘ছেলে অপরাধ করেছে, আজ ২৮ দিন এই কারাগারে। যতই অপরাধ করুক, সাব্বির তো আমাদেরই ছেলে। ওর যাওয়ার কথা ছিল স্কুলে, কিন্তু আজ সে কারাগারে।’

দুপুর ১২টার দিকে সংশোধনাগারের গেট থেকে আনসার সদস্য কয়েকটি প্রবেশকার্ড নিয়ে বের হওয়া মাত্রই ৩০-৪০ জন স্বজন তাকে ঘিরে ধরেন। কার নাম এলো, কে আগে দেখা করবে—এই আশায় সবাই ছুটে যান। মাত্র তিনজনের ডাক পড়ে সাক্ষাৎ রুমে। দেখা হওয়া মাত্রই অশ্রুজলে ভিজে ওঠে চারপাশ। ‘শুকিয়ে গেছিস কেন? খাবার ঠিকমতো খাচ্ছিস তো?’— এমন নানা প্রশ্নে আবেগে ভেসে যান স্বজনরা। যে সন্তান থাকার কথা ছিল মায়ের কোলে, তাকে গরাদের ওপার থেকে দেখে বুকচাপানো কষ্ট চেপে সান্ত্বনা দেন তারা। বাসা থেকে টিফিন হিসেবে আনা পরম মমতার খাবার নিজ হাতে খাইয়ে দেন আদরের সন্তানকে।

ভেতরে উঁকি দিতেই দেখা মেলে লাইন ধরে সাদা স্কুল ড্রেস পরে হেঁটে চলা ২৫-৩০ জন কিশোরের। এদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ বছরের শিশুর সংখ্যাই বেশি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কাঠশিল্প, ইলেকট্রনিকস ও দর্জি ট্রেডে চলে তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা।

সংশোধনাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান জানালেন, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজীপুরের টঙ্গীর এই বালক কেন্দ্রে বর্তমানে ৩০০ আসনের বিপরীতে বন্দি রয়েছে ৯৮০ জন শিশু, যা ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি। অল্প জনবল ও ৪০ শিশুর বিপরীতে মাত্র একটি বাথরুম। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শৃঙ্খলায় রাখতে বন্দিদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত করা হয় ‘ক্যাপ্টেন’। শারীরিক শাস্তির বদলে এখানে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও বই পড়িয়ে সংশোধনের চেষ্টা করা হয়।

কেন্দ্রের তথ্য বলছে, এখানকার বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ চুরি-ছিনতাই এবং ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ। এ ছাড়া ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ মাদক এবং ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার আসামি। বয়সের দিক থেকে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখানে থাকা মোট আসামির প্রায় ৬০ শতাংশই সমাজের উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল পরিবারের সন্তান। পারিবারিক তদারকির অভাব, অবাধ স্বাধীনতা ও বন্ধুদের কুপ্রভাবই তাদের ঠেলে দিচ্ছে অপরাধের অন্ধকার জগতে।

৩০০ আসনের বিপরীতে ৯৮০ জন শিশুর এই বিশাল বহর সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। সরকার থেকে নির্ধারিত প্রতি শিশুর বাজেট ৫ হাজার টাকা হলেও মূলত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অনুদানের সমন্বয়ে প্রতি শিশুর পেছনে বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক খরচ পড়ে প্রায় ১৪ হাজার ২৪০ টাকা। খাবারের তালিকায় সকালের নাশতায় ভাত-আলুভর্তা বা খিচুড়ি, দুপুরে মাছ-মাংস-সবজি-ডাল এবং রাতে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সপ্তাহে চারবার টেলিফোনে এবং মাসে চারবার সরাসরি স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে।

অপরাধের ঘেরাটোপে আটকে থাকা এই কিশোরদের একটি বড় অংশে নেই অনুশোচনাবোধ। এই কিশোরদের অনেকের মধ্যেই গুরুতর অপরাধের পরও অনুশোচনার লেশমাত্র নেই।

ফেনীর বাসিন্দা ১৫ বছরের কিশোর ইসাহাক। বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে বাবা নিজেই তাকে আদালতের মাধ্যমে এই সংশোধনাগারে পাঠিয়েছেন। বাবার আক্ষেপ— ছেলেকে কত জায়গায় নিয়ে গেছেন, কোনোভাবেই ফেরাতে পারেননি। দিনকয়েক পর ফের আদালতে যান। আর্জি তোলেন ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার। আদালত তা গ্রহণ করায় ছেলেকে ফিরিয়ে নিতে এসেছেন তিনি। ফিরে গিয়ে কী করবে, তা নিয়ে এখনো সংশয়ে ইসাহাকের বাবা।

ইরানের সেই মা সন্তান হারানোর শোক সামলে অপরাধীকে ক্ষমা করে এক অনন্য নজির তৈরি করেছিলেন। কিন্তু টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মায়েদের সেই সুযোগও নেই; তাদের শুধু অশ্রুজলে চেয়ে থাকতে হয় চার দেয়ালের ওপারে আটকে থাকা অবাধ্য সন্তানের দিকে। জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া সব শিশু মায়ের কোলে ফেরে না। মুক্তির পর তাদের কেউ কেউ আবার পুরনো কিশোর গ্যাংয়ে ফেরে। সংশোধনের জন্য এখানে আনা হলেও সবাই সংশোধন হয় না। কেউ ফেরে, কেউ হয় ফেরার।

ইরানসমবেদনাহত্যাকারীফেরারশিশু উন্নয়ন কেন্দ্রসংশোধনাগার
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    দেশ ছাড়ার খবর দিয়ে রুমি বললেন— ‘আপনারা ভালো থাকেন’

    দেশ ছাড়ার খবর দিয়ে রুমি বললেন— ‘আপনারা ভালো থাকেন’

    গুলশানের কিংফিশার বারে অভিযান, গোপন কক্ষের সন্ধান

    গুলশানের কিংফিশার বারে অভিযান, গোপন কক্ষের সন্ধান

    ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে পুলিশের বাধা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা দীপক আটক

    ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে পুলিশের বাধা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা দীপক আটক

    কাজ না করে ব্যয় দেখিয়ে কোটি টাকা গায়েব!

    কাজ না করে ব্যয় দেখিয়ে কোটি টাকা গায়েব!

    ’৯৮-এর অভিজাত, ’২৬-এ স্মৃতির ধুলো

    ’৯৮-এর অভিজাত, ’২৬-এ স্মৃতির ধুলো

    আ.লীগ আখ্যা দিয়ে সিপিবি অফিসে বিএনপির হামলা

    আ.লীগ আখ্যা দিয়ে সিপিবি অফিসে বিএনপির হামলা

    মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামান

    মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামান

    গঙ্গাচড়ায় পিটুনিতে নিহত দুই, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    গঙ্গাচড়ায় পিটুনিতে নিহত দুই, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলেছেন কঠোরতা বোঝাতে, সাংবাদিকদের নিয়ে কথাটি অসাবধানতাবশত

    আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলেছেন কঠোরতা বোঝাতে, সাংবাদিকদের নিয়ে কথাটি অসাবধানতাবশত

    হ্যারি কেইনের হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি

    হ্যারি কেইনের হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি

    কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা!

    কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা!

    পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা

    পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা

    ছবি তোলার অভিযোগে ব্যক্তিকে মারধর, চুল কেটে দিলেন ইডেনের ছাত্রীরা

    ছবি তোলার অভিযোগে ব্যক্তিকে মারধর, চুল কেটে দিলেন ইডেনের ছাত্রীরা

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা

    ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক হয়েছে

    ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক হয়েছে