জাতিসংঘে বৈঠকে-সাক্ষাতে তারেক রহমানের ব্যস্ত দিন

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশন’-এ অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: পিএমও
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক ও সাক্ষাতের মাধ্যমে ব্যস্ত দিন পার করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এসব বৈঠক ও সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করা হয় এসব বৈঠক ও সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশন’-এ অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেট লাউঞ্জ হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও সহধর্মিণীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে নেদারল্যান্ডসের রানি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কুইন ম্যাক্সিমার সঙ্গে আলাপচারিতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে। মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হওয়া পৃথক এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও হয় আলোচনা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে হওয়া এ সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত তুর্কি হাউজে হয় এ বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
এর আগে গত সোমবার নিউ ইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রাসহ প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
হোটেলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক।
এর আগে গত সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্লাইটটি তুরস্কে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের যাত্রাবিরতি শেষে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।









