‘বিগ-বি’ কী, কেন আলোচনায়

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ফেসবুক পোস্ট এখন আলোচনায়। আলোচনাটি মূলত পোস্টের ক্যাপশনের লেখা নিয়ে। যেখানে জাপানি প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগির বিগ-বি’ নামে নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুই দেশ একমত।
বহুল সম্ভাবনাময় এই বিগ-বি নতুন করে আলোচনায়। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
বিগ-বি কী
জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা সফরের সময় ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ বি’ উদ্যোগটি ঘোষণা করা হয়। এটি জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি পরিকল্পনা, যার প্রধান তিনটি স্তম্ভ হলো— শিল্প ও বাণিজ্য, জ্বালানি এবং কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগ।
এই পরিকল্পনার উদ্দেশ ঢাকার পর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি শিল্প করিডোর গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শেষ প্রান্ত হিসেবে না দেখে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল বা সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরকে এক অর্থনৈতিক চালচিত্রের আওতায় আনা।
জাপানের নিজস্ব ইতিহাসে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে (টোকিও থেকে ওসাকা হয়ে ফুকুওকা পর্যন্ত) যেভাবে বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়ক ও কারখানা স্থাপন করে একটি অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তৈরি করা হয়েছিল, বিগ বি মূলত সেই অভিজ্ঞতার আদলেই বাংলাদেশকে তাদের নিজস্ব প্রবৃদ্ধির মেরুদণ্ড গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
বিগ বি-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতাবাড়ী। এর নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাপানি কোম্পানি পেন্টা-ওসান ও টিওএ-র সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২৬ সালের মে মাসে এর ড্রেজিং বা খননকাজ শুরু হয় এবং প্রথম ধাপের অপারেশন ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ১৬ মিটার গভীরতার এই বন্দরে ৮ হাজারের বেশি কন্টেইনারবাহী মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে ১২০০ মেগাওয়াটের মাতাবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। এ ছাড়া আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা মেট্রো এবং নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল নির্মাণের মতো বিষয়গুলোও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বিগ বি করিডোর এবং এর অংশ হিসেবে মাতাবাড়ী বন্দর পূর্ণাঙ্গ চালু হলে কন্টেইনারপ্রতি শিপিং খরচ প্রায় ৩ হাজার ডলার থেকে কমে ১ হাজার ৩০০ ডলারে এবং সময় ৪০ দিনের বেশি থেকে কমে প্রায় ১৭ দিনে নেমে আসবে। এ ছাড়া কেবল এই বন্দর একাই বাংলাদেশের জিডিপিতে ২ থেকে ৩ শতাংশ অবদান রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




