আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন মানবজাতির মুক্তি ও হেদায়েতের দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত দিন হিসেবে পালিত হয়। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আরবের মক্কায় মা আমিনার কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী (সা.)।
তার আগমনের আগে আরব সমাজ নিমজ্জিত ছিল অরাজকতা, হানাহানি, মূর্তিপূজা ও নানা কুসংস্কারে। ইতিহাসে এ সময়কে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’-এর যুগ। মহানবী (সা.) মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করেন এবং শিক্ষা দেন সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমা ও মানবিকতার।
৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন মহানবী (সা.)। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন আল্লাহর একাত্মবাদ ও ইসলামের জীবনব্যবস্থার দিকে। তার জীবন ও আদর্শ আজও বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয়। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির আদর্শ।
‘মহানবী (সা.)-এর অনুপম চরিত্র, আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের শিক্ষা চিরকাল মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। বর্তমান বিশ্বে তার শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে’— যোগ করলেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য উন্মোচন করেছিল সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত। প্রধানমন্ত্রী জানালেন, মহানবী (সা.) মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তার পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য হয়ে আছে চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ।
এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘিরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার।






